মুড কলকাতা পরিচিতি
মুড কলকাতা কী?
মুড কলকাতা (ইংরেজিতে MoodKolkata বা Mood Kolkata) একটা বিনামূল্যের ওয়েবসাইট, যেখানে নির্মাতাদের নিজেদের YouTube চ্যানেল থেকে শোনা যায় ৩,৮০০-র বেশি বাংলা অডিও গল্প আর প্রায় ২,০০০ গান। কলকাতায় বানিয়েছে Advertia Digital। সাথে আছে কলকাতার সময় আর আবহাওয়া মেনে চলা একটা রেডিও, আর এমন একটা ব্লগ, যা শোনাও যায়।
আমরা এটা বানিয়েছি বাঙালি শ্রোতার কথা ভেবে। রবিবারের সন্ধেয় আজও মন চায় একটা সানডে সাসপেন্স। ছোটবেলায় শোনা ফেলুদা আবার শুনতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টিভেজা সকালে মনে পড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, সেই মুহূর্তগুলোর জন্যই মুড কলকাতা।
যেখানেই থাকুন, কলকাতার মুডে।
আমরা কী চাই
মুড কলকাতার স্বপ্ন, পৃথিবীর যে-কোনও প্রান্তে কোনও বাঙালি গল্প বা গান শুনতে চাইলে সবার আগে এটাই খুলবেন। আর যে চ্যানেল আর শিল্পীরা এই গল্প আর গান বানান, তাঁরা এখানে পাবেন বাঁধা শ্রোতা।
মুড কলকাতা কী করে?
বাংলা গল্পের চ্যানেল আর গানের লেবেলগুলো প্রায় রোজই নতুন কিছু আনে, আর সবই গিয়ে পড়ে YouTube-এর হাজারটা ভিডিওর ভিড়ে। মুড কলকাতা সেখান থেকে বাঙালি শ্রোতার পছন্দেরটুকু বেছে নেয়, আর সাজায় সেভাবেই, যেভাবে আমরা নিজেরা ভাবি: ঝড়বৃষ্টির রাতের ভূতের গল্প, গোয়েন্দা গল্প, প্রেমের গল্প, ক্লাসিক। ফেলুদা, ব্যোমকেশ আর তারানাথের সব গল্প যে যার নিজের পাতায়। ধারাবাহিক চলে প্রথম পর্ব থেকে শেষ পর্ব অবধি। চায়ের কাপ ফুরোনোর আগেই শেষ হয় এমন ছোট গল্প আছে, আবার লম্বা সফরের জন্য লম্বা গল্পও। তবে প্রতিটা গল্প আর গান বাজে তার নির্মাতার নিজের YouTube ভিডিও থেকেই, YouTube-এর নিজের প্লেয়ারে। ভিউ যোগ হয় তাঁদের চ্যানেলে, বিজ্ঞাপনও তাঁদের। আমরা কিছুই কপি করি না, আপলোডও করি না।
YouTube-এ না শুনে মুড কলকাতায় বাংলা অডিও গল্প কেন শুনবেন?
মুড কলকাতায় বাংলা অডিও গল্প আগে থেকেই খুঁজে, বেছে, পর পর সাজানো থাকে। YouTube-এ সেই খোঁজার খাটুনিটা আপনার। ‘ফেলুদা’ বা ‘সানডে সাসপেন্স’ লিখে খুঁজলে যে গল্পটা চাইছিলেন, সেটা আসে ঠিকই, কিন্তু সাথে আসে সিনেমার ক্লিপ, ট্রেলার, রিঅ্যাকশন ভিডিও আর একই নামের আরও কয়েকটা আপলোড। ধারাবাহিক শুরু করলে দেখবেন, তৃতীয় পর্ব এসেছে দ্বিতীয়টার কয়েক সপ্তাহ পরে, পড়ে আছে চ্যানেলের কোন কোণে। এখানে ভূতের গল্প আর গোয়েন্দা গল্পের আলাদা পাতা আছে, আছে ফেলুদা, ব্যোমকেশ বক্সী আর তারানাথ তান্ত্রিকেরও। প্রতিটা পাতায় সব চ্যানেলের রেকর্ডিং একসাথে। মির্চি বাংলার সানডে সাসপেন্স পাবেন অন্য গল্পের চ্যানেলগুলোর পাশেই, আমাদের গল্পের পাতায়। ‘নতুন গল্প’ পাতায় দেখবেন চ্যানেলগুলো সদ্য কী এনেছে, আর ‘সেরা ১০’ বলে দেয় লোকে এখন কী শুনছে।
মুড কলকাতায় প্রতিটা গল্পের সাথে আর কী পাবেন?
মুড কলকাতায় একটা গল্প চালানোর আগেই জেনে যান গল্পটা কী, আর কোন চ্যানেল শুনিয়েছে। ভিডিওর শিরোনামে অনেক সময় চ্যানেলের নাম, পর্বের নম্বর আর নানা ট্যাগ একসাথে থাকে। আমরা সেখান থেকে গল্পের নামটুকু আলাদা করে দেখাই, বাংলায় বা ইংরেজিতে। ২,০০০-এর বেশি গল্পের সাথে আছে চ্যানেলের নিজের লেখা দু-চার লাইনের পরিচয়, যাতে শুরু করার আগেই বোঝেন গল্পটা কেমন।
ধারাবাহিক গল্প এখানে চলে প্রথম পর্ব থেকে, ঠিক ক্রমে। পরের কোনও পর্ব খুললেও আগের পর্বগুলো সামনেই থাকে, তাই গল্প মাঝখান থেকে ধরার ভয় নেই। একটা গল্প শেষ হলে ‘এমন আরও’-তে পাবেন একই চরিত্রের, একই লেখকের বা একই ধরনের আরেকটা গল্প। সিরিজের পরের পর্ব কখনও আগের পর্বের আগে আসবে না।
মাঝপথে থামালে গল্পটা ঠিক সেই সেকেন্ডে আপনার জন্য অপেক্ষা করে, ফোনে, আর সাইন ইন করা থাকলে ল্যাপটপেও। রাতে ভূতের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমোতে চাইলে চালিয়ে দিন ঘুমের টাইমার। গাড়িতে থাকলে আছে Drive Mode।
আর বাংলা গান?
মুড কলকাতা বাংলা গান বাজায় বাঙালির মনের মতো করে: মুড, সময় আর কলকাতার আবহাওয়া মিলিয়ে। বর্ষার সন্ধেয় খুললে বাজবে বৃষ্টির গান, কারণ কলকাতায় তখন বৃষ্টি পড়ছে। ভোরে রবীন্দ্রসঙ্গীত, পুজোয় পুজোর গান। নয়তো নিজেই মুড বেছে নিন: আড্ডা, প্রেম, বিরহ, নজরুলগীতি, লোকগীতি, পুরোনো দিনের বাংলা গান বা বাংলা ব্যান্ড। কোন গান আপনি শেষ অবধি শোনেন আর কোনটা টপকে যান, রেডিও তা খেয়াল করে, আর যে গান ভালো লাগে, সেগুলোই বেশি বাজায়।
মুড কলকাতার ব্লগ কী?
মুড কলকাতার ব্লগ বাঙালির জীবন আর সংস্কৃতি নিয়ে লেখা, বাংলায় আর ইংরেজিতে: উৎসব আর তার পেছনের রীতি, বাঙালির হেঁশেল, কলকাতার রাস্তা আর তার পুরোনো দিন, যেসব জায়গায় আমরা বেড়াতে যাই, যে বই পড়ে বড় হয়েছি, আর এই সবকিছুর সাথে জড়িয়ে থাকা গান আর গল্প। বাংলায় যাঁরা থাকেন আর যাঁরা দূরে, লেখা সবার জন্য।
আলাদা শুধু এক জায়গায়: এই ব্লগ যা নিয়ে লেখে, তা শোনায়ও। মহালয়ার কথা পড়তে পড়তে সেই পাতাতেই শুনুন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী। পুজোর গান নিয়ে পড়ুন, আর পড়তে পড়তেই চালিয়ে দিন গানগুলো।
কলকাতার বাইরের বাঙালিদের জন্যও কি মুড কলকাতা?
অবশ্যই, আপনি যেখানেই থাকুন, মুড কলকাতা চলে কলকাতার ঘড়ি আর কলকাতার আবহাওয়া মেনে। কলকাতায় বর্ষার সন্ধে নামলে বৃষ্টির গান পৌঁছে যায় লন্ডন, বেঙ্গালুরু বা টরন্টোতেও। টরন্টোয় বসেও তাই কলকাতায় বৃষ্টি নামলে বৃষ্টির গানই শুনবেন।
এই গল্প আর গান কাদের?
মুড কলকাতার গল্প আর গান তাঁদের, যাঁরা বানিয়েছেন: গানের লেবেল আর শিল্পীরা, আর বাংলা গল্পের চ্যানেলগুলো, যেমন মির্চি বাংলা (সানডে সাসপেন্স যাদের), মীর আফসার আলি, 221B Harrison Road, Thriller Land আর আকাশবাণী কলকাতা। প্রতিবার চালালে চলে তাঁদের নিজেদের YouTube ভিডিওটাই, আর সবার নাম আছে আমাদের কৃতজ্ঞতা পাতায়।
মুড কলকাতা কি বিনামূল্যে? অ্যাকাউন্ট লাগে কি?
মুড কলকাতা বিনামূল্যে, আর শুনতে কখনও অ্যাকাউন্ট লাগে না। সাইন ইন করলে (Google বা ইমেলে পাঠানো লিংক দিয়ে) শুধু আপনার তারা দেওয়া গান আর গল্প, প্লেলিস্ট, শোনার ইতিহাস আর কোথায় থেমেছিলেন, সবই পৌঁছে যায় আপনার প্রতিটা ডিভাইসে। আরও প্রশ্নের উত্তর আছে প্রশ্নোত্তর পাতায়।
যোগাযোগ
আমাদের লিখুন [email protected] বা [email protected] ঠিকানায়।
গুগলে মুড কলকাতাকে পছন্দের উৎস হিসেবে বেছে নিন