মূল অংশে যান
MoodKolkata
বিষ্ণুপুরের এক পোড়ামাটির মন্দিরে লাল ইটের খিলানের লম্বা বারান্দা, একটার ভেতরে আরেকটা খিলান, একেবারে শেষে দিনের আলোয় সবুজ গাছ
বিষ্ণুপুরের মন্দিরের ইটের খিলান, ডিসেম্বর ২০১৫। নীচের ট্রেনের ট্রিপগুলোর মধ্যে বিষ্ণুপুরও আছে

বেড়ানো

২ অক্টোবরের লম্বা ছুটিতে কলকাতা থেকে তিন দিনের ট্রিপ: গাড়িতে পাঁচ, ট্রেনে পাঁচ

গান্ধী জয়ন্তীর শুক্রবার থেকে রবিবার, ২ থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬। গাড়িতে পাঁচটা জায়গা, দূরত্ব আর রাস্তার নম্বর সমেত। ট্রেনে পাঁচটা, রেলের নিজের খাতা মিলিয়ে ট্রেনের নম্বর, সময় আর চলার দিন সমেত।

কোয়েল মণ্ডলপ্রকাশ হালনাগাদ

এই লেখায় (৫)

কলকাতায় পুজো প্রতি বছর একই ভাবে আসে। আগে দোকানে, তারপর রাস্তায়। এ বছর ঠিক তার মাঝখানে একটা ছুটি পড়েছে। গান্ধী জয়ন্তী শুক্রবার, ২ অক্টোবর। শুক্র, শনি, রবি মিলিয়ে তিন দিন, মহালয়ার আট দিন আর ষষ্ঠীর দু সপ্তাহ আগে। পুজোর আগে এটাই শেষ ফাঁকা সপ্তাহান্ত, আর অনেকেই এটা কাটাবেন শহরের বাইরে।

তাই দশটা পরিকল্পনা, প্রতিটা তিন দিনের। পাঁচটা গাড়িতে, পাঁচটা ট্রেনে। বেছেছি অক্টোবরের গোড়ায় কোনটা মানায় সেই হিসেবে, কোনটার রিল বেশি সেই হিসেবে নয়। বর্ষার শেষে সমুদ্রে যাওয়া আর শালবনে হাঁটা, দুটোর প্রস্তুতি আলাদা। নীচের ট্রেনের সময় ভারতীয় রেলের নিজের খোঁজখবরের ব্যবস্থা এনটিইএস থেকে, লম্বা ছুটির দিনগুলোর হিসেবে। পরিকল্পনাগুলো সাজানো রেলের সময়সারণি, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের পাতা, সরকারি লজের নিজের তালিকা, উইকিপিডিয়া আর ওপেনস্ট্রিটম্যাপ ধরে, কোনও সফর থেকে নয়। কোন তথ্য কোথা থেকে, লেখাতেই বলা আছে।

বাছার আগে: আবহাওয়া, পুজোর ভিড় আর কী কী বুক করবেন

আগে বৃষ্টির কথা। আলিপুরের ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের হিসেব বলছে, কলকাতায় গড় অক্টোবরে বৃষ্টি হয় ১৭৯.৬ মিলিমিটার, গড়ে ৭.৪ দিন। দিনে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রির কাছাকাছি, রাতে ২৪। মাসটা তবু ভিজে। পুরুলিয়ার পাহাড় আর ঝাড়গ্রামের জঙ্গলের পক্ষে সেটা সুখবর, বর্ষার ঠিক পরেই ওরা সবচেয়ে সবুজ। সমুদ্রে গেলে অবশ্য দেখবেন পূর্বাভাস, ক্যালেন্ডার নয়। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কলকাতার পূর্বাভাস পড়ে নিন, উপকূলে সতর্কতা থাকলে জলে নামবেন না।

তারপর ভিড়। তিন দিনের ছুটি, তার ওপর পুজোর আগে শেষ। আগে ভরবে সরকারি লজ, তারপর ভালো বেসরকারি হোটেলগুলো। রবিবার সন্ধেয় সব হাইওয়েতেই কলকাতায় ফেরার গাড়ির লম্বা সারি হবে। দুটো অভ্যেস কাজে দেয়: শুক্রবার ভোর ছ’টার আগে শহর ছাড়ুন, আর রবিবার দুপুরের মধ্যে ফেরার পথ ধরুন।

গাড়িতে তিন দিন: পাঁচটা জায়গা

নীচের দূরত্ব আর সময় ওপেনস্ট্রিটম্যাপের হিসেব, ধর্মতলা থেকে মাপা, পথ একেবারে ফাঁকা ধরে নিয়ে। ওই সময়ের কমে পৌঁছোবেন না, এটুকু ধরে রাখুন। ছুটির শুক্রবার সকালে অন্তত এক ঘণ্টা বেশি লাগবে, কোলাঘাটে জলখাবারে থামলে আরও।

তাজপুর আর মন্দারমণি

পূর্ব মেদিনীপুর, বঙ্গোপসাগরের ধারে

কলকাতা থেকে গাড়িতে সবচেয়ে সহজ সমুদ্র। মন্দির নয়, বালি চাইলে আমাদের পছন্দ এটাই। উইকিপিডিয়া রাস্তাটা লিখেছে ঠিক যেভাবে সবাই যান: বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে মুম্বই রোড, কোলাঘাট হয়ে নন্দকুমার, সেখান থেকে ডাইনে কাঁথির দিকে, তারপর চাউলখোলায় বাঁ দিকে। টোল পড়বে ধূলাগড়ি আর সোনাপেট্যায়। মন্দারমণির সৈকত প্রায় ১৩ কিলোমিটার লম্বা। সৈকতের ওপর দিয়ে এখন আর প্রাইভেট গাড়ি চালাতে দেয় না পুলিশ, হোটেলে পৌঁছোনোর রাস্তা পেছন দিক দিয়ে। তাজপুর কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে। দু রাত একটায় থাকুন, অন্যটা ঘুরে আসুন। মাঝের সৈকত ধরে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। অক্টোবরের গোড়ায় সমুদ্র অশান্ত হতে পারে। যেখানে সবাই নামছেন, শুধু সেখানেই জলে নামুন, অন্ধকার হলে আর নয়।

দূরত্ব
মোটামুটি ১৭০ কিমি। ফাঁকা রাস্তায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ), আসলে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা (উইকিপিডিয়া)
রাস্তা
এনএইচ১৬ ধরে কোলাঘাট, এনএইচ১১৬ ধরে নন্দকুমার, তারপর এনএইচ১১৬বি ধরে কাঁথি-দিঘার দিকে
শুক্র, ২ অক্টোবর
ভোর ছ’টায় বেরিয়ে হাইওয়েতে জলখাবার, দুপুরের মধ্যে চেক-ইন, তাজপুরের সৈকতে সূর্যাস্ত
শনি, ৩ অক্টোবর
দিনে মন্দারমণি। সূর্যাস্তের সময় স্থানীয় মাঝিদের নৌকোয় মোহনা, যেখানে নদী সমুদ্রে মেশে
রবি, ৪ অক্টোবর
ভোরে ভেজা বালিতে লাল কাঁকড়া দেখতে হাঁটা, ১১টায় চেক-আউট, সন্ধের মধ্যে বাড়ি
থাকার জায়গা
বন উন্নয়ন নিগমের তাজপুর প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র (নিগমের সাইটে বুকিং), নয়তো মন্দারমণিতে সব বাজেটের বেসরকারি রিসর্ট। ছুটির বাড়তি ভাড়া আছে কি না জেনে নিন

Google Maps-এ দেখুন

গাদিয়াড়া

হাওড়া জেলা, রূপনারায়ণ যেখানে হুগলিতে মিশেছে

কাছেই, আর এই তালিকার সবচেয়ে অলস ছুটি, সেটাই এর গুণ। গাদিয়াড়া ঠিক সেখানে, যেখানে রূপনারায়ণ এসে হুগলিতে পড়েছে। আছে একটা বাতিঘর আর মর্নিংটন দুর্গের ভাঙা দেওয়াল। দুর্গের অনেকটাই গেছে ১৯৪২-এর বন্যায়। দেখার তালিকা ছোট। আসবেন দুই নদীর মিলন আর জলের ওপর সূর্যাস্তের জন্য, আর তিন দিন প্রায় কিছু না করার জন্য। ঠাসা সূচি চাইলে অন্য জায়গা বাছুন।

দূরত্ব
৮৫ কিমি। ফাঁকা রাস্তায় সওয়া এক ঘণ্টার মতো (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ)
রাস্তা
হাওড়া থেকে এনএইচ১৬, তারপর এসএইচ১৫ ধরে দক্ষিণে নদী পর্যন্ত
শুক্র, ২ অক্টোবর
দুপুরের খাওয়ার আগে পৌঁছোনো, বিকেলে নদীর পাড় আর বাতিঘর, লজের লন থেকে সূর্যাস্ত
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে দুর্গের ভগ্নাবশেষ, নৌকো বেরোলে নদীতে একপাক, তারপর লম্বা একটা বিকেল
রবি, ৪ অক্টোবর
ধীরেসুস্থে জলখাবার, রবিবারের ভিড়ের আগে কলকাতা
থাকার জায়গা
রাজ্যের রূপমঞ্জরী ট্যুরিজম প্রপার্টি, ঘরপ্রতি রাতে ₹২,৮০০ থেকে ₹৩,২০০, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এর বুকিং সাইটে যেমন দেওয়া

Google Maps-এ দেখুন

টাকি

উত্তর ২৪ পরগনা, ইছামতীর পাড়ে

নদীর ওপারে আরেকটা দেশ। টাকি ইছামতীর পাড়ে, আর নদী বরাবর চলে গেছে বাংলাদেশের সীমান্ত। লোকে গাড়ি নিয়ে এখানে আসেন সেই টানেই। নদীতে নৌকো আছে, আছে গোলপাতার জঙ্গল আর তার ওপর দিয়ে হাঁটার ক্যানোপি ওয়াক। আর আছে ছানার মালপোয়া, টাকির নামডাক এই মিষ্টিরই। অনেকে টাকিতে আসেন বিজয়া দশমীতে, ইছামতীতে ভাসান দেখতে। এ বছর সেটা ২১ অক্টোবর, এই সপ্তাহান্তে নয়। এই তিন দিনে টাকি গাদিয়াড়ার মতোই জিরোনোর জায়গা, সঙ্গে একটা মিষ্টির দোকান। দু ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে না চাইলে এটাই বাছুন।

দূরত্ব
৭০ কিমি। ফাঁকা রাস্তায় সওয়া এক ঘণ্টার মতো (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ)
রাস্তা
বারাসত হয়ে উত্তরে, রাজ্য সড়ক ধরে। ওপেনস্ট্রিটম্যাপে আগে এসএইচ৩, পরে এসএইচ২, এ পথে জাতীয় সড়ক নেই
শুক্র, ২ অক্টোবর
বেলা এগারোটার মধ্যে পৌঁছে বিকেলে নদীর ধার, অন্ধকার নামার আগে মালপোয়া
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে ইছামতীতে নৌকো, দুপুরের পর গোলপাতার জঙ্গল আর ক্যানোপি ওয়াক
রবি, ৪ অক্টোবর
নদীর ধারে আরেকবার হাঁটা, তারপর ফেরা। সন্ধের আগেই বাড়ি
থাকার জায়গা
নদীর ধারে বেসরকারি হোটেল আর গেস্ট হাউস। এখানে যে সরকারি লজগুলোর কথা লিখেছি, তাদের কোনওটা টাকিতে নেই

Google Maps-এ দেখুন

ঝাড়গ্রাম আর বেলপাহাড়ি

ঝাড়গ্রাম জেলা, পশ্চিমের জঙ্গলমহল

অক্টোবরের গোড়ায় গাড়ির ট্রিপের মধ্যে আমাদের প্রথম পছন্দ। বর্ষা সবে শালবন ধুয়ে দিয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন লিখছে ঝাড়গ্রামের শাল, সেগুন, পিয়াশাল আর মহুলের জঙ্গলের কথা। উত্তরে বেলপাহাড়ি আর কাঁকড়াঝোড়ের পাহাড়। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৩১-এ, ২৩ একর জমির ওপর, ইন্দো-সারাসেনিক ধাঁচে। তার একাংশ এখন রাজ্যের পর্যটন আবাস, তাই কলকাতার হোটেলের ঘরের চেয়ে কম খরচে রাজবাড়িতে রাত কাটানো যায়। শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ডুলুং নদীর ধারে চিল্কিগড়, সেখানে কনকদুর্গার মন্দির এমন ঘন জঙ্গলে যে গরমকালেও ঠান্ডা থাকে। বেলপাহাড়ি পাহাড়ের দিকে আরও মোটামুটি ৩৫ কিলোমিটার।

দূরত্ব
ঝাড়গ্রাম ১৭১ কিমি, বেলপাহাড়ি ২০৭ কিমি। ফাঁকা রাস্তায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট আর ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ)
রাস্তা
এনএইচ১৬ ধরে খড়গপুর, তারপর এনএইচ৪৯ ধরে পশ্চিমে, এসএইচ৫ দিয়ে ঝাড়গ্রাম
শুক্র, ২ অক্টোবর
ভোরে বেরোনো, বিকেলে রাজবাড়ির চত্বর, সন্ধেটা শহরে
শনি, ৩ অক্টোবর
সারা দিন বেলপাহাড়ি আর কাঁকড়াঝোড়ের পাহাড়, অন্ধকারের আগে ঝাড়গ্রামে ফেরা
রবি, ৪ অক্টোবর
সকালে চিল্কিগড় আর কনকদুর্গার মন্দির, তারপর এনএইচ১৬ ধরে বাড়ি
থাকার জায়গা
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিজম প্রজেক্ট, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ দেওয়া ভাড়া ₹৩,১০০ থেকে ₹৬,০০০। নয়তো বন উন্নয়ন নিগমের ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র
গাড়ি নেই?
১২০২১ জনশতাব্দী রোজ হাওড়া ছাড়ে ভোর ৬টা ২০-তে, ঝাড়গ্রাম পৌঁছোয় ৮টা ২৪-এ। ফেরার ১২০২২ ঝাড়গ্রাম ছাড়ে সন্ধে ৬টা ১৫-য়, হাওড়া রাত ৯টা

Google Maps-এ দেখুন

মুকুটমণিপুর

বাঁকুড়া জেলা, ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে

এই তালিকার সবচেয়ে লম্বা ড্রাইভ, আর সবচেয়ে বেশি জল। মুকুটমণিপুরে কংসাবতী আর কুমারী মিশেছে, আর তাদের আটকে রেখেছে প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা, ৩৮ মিটার উঁচু মাটির বাঁধ। বাঁধের পরিকল্পনা হয় ১৯৫৬-তে, বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া আর মেদিনীপুরে সেচের জল দিতে। রাস্তা যায় বিষ্ণুপুর ছুঁয়ে, তাই যাওয়ার পথেই পোড়ামাটির মন্দির দেখে নিন। সূর্যাস্তে বাঁধের ওপর হাঁটুন। লেক থেকে মোটামুটি ২ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়ার বঙ্গোপালপুর সংরক্ষিত বন, আর বাঁধ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অম্বিকানগর, একসময়ের জৈন তীর্থ।

দূরত্ব
২১৩ কিমি। ফাঁকা রাস্তায় ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ)
রাস্তা
এসএইচ১৫ আর এসএইচ২ ধরে আরামবাগ হয়ে বিষ্ণুপুর, খানিকটা এনএইচ১৪, তারপর খাতড়া হয়ে এসএইচ২ আর এসএইচ৪
শুক্র, ২ অক্টোবর
ভোর ছ’টায় বেরিয়ে বিষ্ণুপুরে দুপুরের খাওয়া আর দুটো মন্দির, বিকেলের শেষে মুকুটমণিপুর
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে জলাধারে নৌকো, দুপুরের পর বঙ্গোপালপুরের বন আর অম্বিকানগর, সূর্যাস্তে বাঁধ
রবি, ৪ অক্টোবর
একই রাস্তায় ফেরা। সকাল দশটায় বেরোলে অন্ধকারের আগে কলকাতা
থাকার জায়গা
রাজ্যের বড়ঘুটু ট্যুরিজম প্রপার্টি, মুকুটমণিপুরেই, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ দেওয়া ভাড়া ₹১,৮০০ থেকে ₹৩,০০০, নয়তো বাঁধের কাছে বেসরকারি লজ আর রিসর্ট। সেদিন বাঁধের রাস্তায় গাড়ি উঠতে দিচ্ছে কি না, গেটে জেনে নিন

Google Maps-এ দেখুন

গাড়ির জানলা খোলা রেখে শোনার মতো তিনটে গান রইল আমাদের লং ড্রাইভ মুড থেকে। শুরু করুন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’ দিয়ে। ‘পথ’ শব্দটা ওঁর চেয়ে নরম করে বাংলায় আর কেউ গাননি।

৩:২৩

পথের ক্লান্তি ভুলে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

Saregama Bengali

‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ ছবির গান, পথের ক্লান্তি ভোলার গান। কলকাতার জট ছাড়িয়ে গাড়ি যখন এনএইচ১৬-এ উঠল, তখন চালান।

লং ড্রাইভ মুডে আরও

৩:৩৪

এই পথ যদি না শেষ হয়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

Saregama Bengali

‘সপ্তপদী’র সেই দ্বৈত গান। পথ যদি না ফুরোয়, তিন দিনের ছুটিতে এ কথা ভাবতে কারও আপত্তি নেই।

লং ড্রাইভ মুডে আরও

৩:৪৯

চাঁদের পাহাড়, টাইটেল গান, অরিজিৎ সিং

SVF

বিভূতিভূষণের উপন্যাস থেকে তৈরি ছবির গান। বিষ্ণুপুর বা খড়গপুর পেরিয়ে লাল মাটির যে রাস্তায় জমি একটু একটু উঁচু হতে থাকে, সেখানে চালান।

লং ড্রাইভ মুডে আরও

ট্রেনে তিন দিন: পাঁচটা জায়গা, আসল ট্রেন সমেত

এই সারণির প্রতিটা ট্রেন চলে পরিকল্পনায় যেদিন তাকে ধরতে বলা হয়েছে সেদিন: পুরুলিয়ার রাতের ট্রেন বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, যাওয়ার ট্রেন শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ফেরার ট্রেন রবিবার, ৪ অক্টোবর। সময় ভারতীয় রেলের নিজের, এনটিইএস থেকে নেওয়া। রেলের তথ্যের যে প্রতিলিপি ই-রেল রাখে, সেখানেও একই সময়। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে কোনওটারই বাতিল বা ঘুরপথের খবর এনটিইএস-এ ছিল না। তবে সময়সারণি বদলায়, লাইনের কাজে হঠাৎ ট্রেন বাতিলও হয়। তাই বেরোনোর দিন সকালে এনটিইএস খুলে ‘ট্রেন এক্সেপশন ইনফো’-তে নিজের ট্রেনটা দেখে নিন।

২ থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর ট্রেন, এনটিইএস-এ দেখা ২৯ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর
কোথায়ট্রেনছাড়েপৌঁছোয়কবে চলেক্লাস
শান্তিনিকেতন, যাওয়া১৩০১৭ গণদেবতা এক্সপ্রেসহাওড়া ০৬:০৫বোলপুর ০৮:২৯রোজ3A, CC, SL, 2S
শান্তিনিকেতন, যাওয়া২২৩০১ বন্দে ভারতহাওড়া ০৫:৫৫বোলপুর ০৭:২৫বুধবার বাদেCC
শান্তিনিকেতন, যাওয়া১২৩৩৭ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসহাওড়া ১০:০০বোলপুর ১২:১৫রোজCC, 2S
শান্তিনিকেতন, ফেরা১২৩৩৮ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসবোলপুর ১৩:১৫হাওড়া ১৬:০০রোজCC, 2S
শান্তিনিকেতন, ফেরা১৩০১৮ গণদেবতা এক্সপ্রেসবোলপুর ১৮:১১হাওড়া ২১:৫০রোজ3A, CC, SL
শান্তিনিকেতন, ফেরা২২৩০২ বন্দে ভারতবোলপুর ২০:০৫হাওড়া ২২:৩০বুধবার বাদেCC
বিষ্ণুপুর, যাওয়া১২৮৮৩ রূপসী বাংলাসাঁতরাগাছি ০৬:৩০বিষ্ণুপুর ০৯:৩০রোজ3A, CC, 2S
বিষ্ণুপুর, যাওয়া১২৮৮৫ আরণ্যক এক্সপ্রেসশালিমার ০৭:৪৫বিষ্ণুপুর ১১:০০রবিবার বাদেCC
বিষ্ণুপুর, ফেরা১২৮৮৪ রূপসী বাংলাবিষ্ণুপুর ১৭:৩১হাওড়া ২১:১৫রোজ3A, CC, 2S
অযোধ্যা পাহাড়, যাওয়া১৮০১১ চক্রধরপুর এক্সপ্রেসহাওড়া ২৩:৩০, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবরপুরুলিয়া ০৬:২৫, শুক্রবাররোজস্লিপার আর এসি বার্থ
অযোধ্যা পাহাড়, যাওয়া১২৮৮৩ রূপসী বাংলাসাঁতরাগাছি ০৬:৩০পুরুলিয়া ১২:০৫রোজ3A, CC, 2S
অযোধ্যা পাহাড়, ফেরা১২৮৮৪ রূপসী বাংলাপুরুলিয়া ১৫:২৫হাওড়া ২১:১৫রোজ3A, CC, 2S
ঘাটশিলা, যাওয়া১২০২১ জনশতাব্দীহাওড়া ০৬:২০ঘাটশিলা ০৯:০১রোজCC
ঘাটশিলা, যাওয়া১২৮১৩ স্টিল এক্সপ্রেসহাওড়া ১৭:১০ঘাটশিলা ২০:০৫রোজCC, 2S, EC, 3E
ঘাটশিলা, ফেরা১২০২২ জনশতাব্দীঘাটশিলা ১৭:৩২হাওড়া ২১:০০রোজCC, 2S
দিঘা, যাওয়া১২৮৫৭ তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসহাওড়া ০৬:৪৫দিঘা ১০:০৫রোজCC
দিঘা, যাওয়া২২৮৯৭ কাণ্ডারী এক্সপ্রেসহাওড়া ১৫:০০দিঘা ১৮:২০রোজCC, 2S
দিঘা, ফেরা১২৮৫৮ তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসদিঘা ১০:৩৫হাওড়া ১৩:৫৫রোজCC, 2S
দিঘা, ফেরা২২৮৯৮ কাণ্ডারী এক্সপ্রেসদিঘা ১৯:২০হাওড়া ২২:৪০রোজCC, 2S

3A মানে এসি থ্রি-টিয়ার, SL স্লিপার, CC এসি চেয়ার কার, EC এক্সিকিউটিভ চেয়ার, 3E এসি ইকোনমি, 2S সেকেন্ড সিটিং। আরণ্যক এক্সপ্রেস রবিবার চলে না, তাই বিষ্ণুপুর থেকে ফিরবেন রূপসী বাংলায়। বোলপুরের বন্দে ভারত বুধবার চলে না। এই সপ্তাহান্তে দু দিকেই চলছে।

শান্তিনিকেতন

বীরভূম, কলকাতা থেকে ১৫২ কিলোমিটার উত্তরে

চেনা পথ, আর হাওড়া থেকে সপ্তাহান্তের সবচেয়ে সহজ ট্রেন এখনও এটাই। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জমি নেন ১৮৬৩-তে, রবীন্দ্রনাথ ১৯০১-এ এখানে তাঁর ইস্কুল শুরু করেন, ১৯২১-এ বিশ্বভারতী, আর ২০২৩-এ ইউনেস্কো শান্তিনিকেতনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে। ভোরের গণদেবতা ধরুন, তাহলে গোটা শুক্রবারটা হাতে থাকে। খোয়াই মানে শহরের কিনারে ক্ষয়ে যাওয়া লাল মাটি। তার ধারেই সোনাঝুরির হাট, সেখানে মেলে স্থানীয় হাতের কাজ আর লোকগানের দল। উইকিপিডিয়া বলছে হাট বন্ধ থাকে শুধু বুধবার, তাই তিন দিনই খোলা। পুজোর দু সপ্তাহ আগে হাটটা কেনাকাটারও জায়গা, আর ঠিক সেই কারণেই ভিড় হবে। কারুশিল্পের সমবায় আমার কুটির মোটামুটি ১৫ কিলোমিটার দূরে।

শুক্র, ২ অক্টোবর
১৩০১৭ গণদেবতা, হাওড়া ০৬:০৫, বোলপুর ০৮:২৯। সকালে বিশ্বভারতী চত্বর, সূর্যাস্তে খোয়াই
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে আমার কুটির, দুপুরের পর সোনাঝুরির হাট, গান শোনার জন্য হাতে এক ঘণ্টা রেখে
রবি, ৪ অক্টোবর
শেষবার একটু হাঁটা, তারপর ১২৩৩৮ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, বোলপুর ১৩:১৫, হাওড়া ১৬:০০। নয়তো ১৮:১১-র গণদেবতা
থাকার জায়গা
বোলপুরে রাজ্যের তিনটে লজ, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ দেওয়া ভাড়ায়: বাউল বিতান ₹২,৮০০ থেকে ₹৪,৬০০, রাঙাবিতান ₹২,৯০০ থেকে ₹৫,৪০০, শান্তবিতান ₹২,৫০০ থেকে ₹৪,২০০

Google Maps-এ দেখুন

১:০০:৫৭শুনুন: বোলপুর ডায়েরিজ

বোলপুর ডায়েরিজ

Sudhu Golper Jonno

বোলপুরের পটভূমিতে গোয়েন্দা গল্প, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে বলা: সবার চেনা একটা কবিতা, আর তার পাশে কয়েক ফোঁটা বেখাপ্পা রক্ত। মোটামুটি এক ঘণ্টা, গণদেবতার ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের যাত্রায় অনায়াসে ধরে যায়।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Sudhu Golper Jonno

বিষ্ণুপুর

বাঁকুড়া, মল্লরাজাদের মন্দিরের শহর

বিষ্ণুপুরের জন্য তিন দিন ঠিক মাপের, আর অক্টোবরের আলো পোড়ামাটির পক্ষে ভালো। মন্দিরগুলো মল্লরাজাদের গড়া। উইকিপিডিয়া সবচেয়ে চেনাগুলোর সাল দিয়েছে: শ্যামরায় ১৬৪৩, দুই চালের জোড়বাংলা ১৬৫৫ নাগাদ, মদনমোহন ১৬৯৪ নাগাদ, আর রাসমঞ্চকে ধরা হয় এদের মধ্যে প্রাচীনতম ইটের মন্দির বলে। ১৯৯৭ থেকে মন্দিরগুলো ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায়। বিষ্ণুপুরের নিজের একটা সংগীত ঘরানাও আছে, তার শুরু ধরা হয় ১৩৭০ সালে। আর আছে বালুচরী শাড়ি, পাড়ে আর আঁচলে বোনা রামায়ণ-মহাভারতের দৃশ্য। শুক্রবার সাঁতরাগাছি থেকে রূপসী বাংলা ধরুন, রবিবার সন্ধেয় সেই ট্রেনেই ফিরুন।

শুক্র, ২ অক্টোবর
১২৮৮৩ রূপসী বাংলা, সাঁতরাগাছি ০৬:৩০, বিষ্ণুপুর ০৯:৩০। দুপুরের আগে রাসমঞ্চ আর শ্যামরায়, বিকেলে জোড়বাংলা
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে মদনমোহন আর ছোট মন্দিরগুলো। দুপুরের পর বালুচরী শাড়ির দোকান
রবি, ৪ অক্টোবর
সকালটা নিজের মতো, তারপর ১২৮৮৪ রূপসী বাংলা, বিষ্ণুপুর ১৭:৩১, হাওড়া ২১:১৫
থাকার জায়গা
বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম প্রপার্টি, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ দেওয়া ভাড়া ₹২,৪০০ থেকে ₹৪,২০০, নয়তো শহরের হোটেল

Google Maps-এ দেখুন

৪০:৪৮শুনুন: বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে এক রাত

বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে এক রাত

221B Harrison Road

বিষ্ণুপুরের কাছে এক জঙ্গলে একটা রাত, ২২১বি হ্যারিসন রোডের গ্রামবাংলার ভূতের গল্পের সারি থেকে। চল্লিশ মিনিট, খড়গপুর থেকে বিষ্ণুপুরের মধ্যে আরামে শেষ হয়ে যায়।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · 221B Harrison Road

অযোধ্যা পাহাড়

পুরুলিয়া, ছোটনাগপুর মালভূমির পুব কিনারা

ট্রেনের ট্রিপের মধ্যে আমাদের প্রথম পছন্দ, আর অক্টোবরের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। বৃষ্টি সবে থেমেছে, পাহাড় সবুজ, ঝরনায় জল। উইকিপিডিয়ার হিসেবে সবচেয়ে উঁচু চূড়া চামটুবুরু, মোটামুটি ৭০০ মিটার (একই লেখায় ৬৯৯ আর ৭২০, দুটো মাপই আছে)। পাহাড়চূড়া থেকে রাস্তা ধরে দূরত্বও সেখানে দেওয়া আছে: পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পের আপার ড্যাম ৬ কিলোমিটার, বামনি ফলস ১০, তুর্গা ড্যাম আর ফলস ১৮, নীচে মুরগুমার জলাধার। এ ছৌ নাচের দেশও, পুরুলিয়ার মুখোশ নাচ। বৃহস্পতিবার রাতের হাওড়ার ট্রেন ধরলে গোটা শুক্রবার হাতে। বাড়িতে ঘুমিয়ে বেরোতে চাইলে রূপসী বাংলা দুপুর বারোটায় পুরুলিয়া পৌঁছোয়। পাহাড়ে ঘোরার গাড়ি পুরুলিয়া স্টেশন থেকে নিন।

বৃহঃ, ১ অক্টোবর
১৮০১১ চক্রধরপুর এক্সপ্রেস হাওড়া ছাড়ে রাত ১১টা ৩০-এ, পুরুলিয়া পৌঁছোয় শুক্রবার ভোর ৬টা ২৫-এ
শুক্র, ২ অক্টোবর
জলখাবারের মধ্যে পাহাড়ে ওঠা, সকালে আপার আর লোয়ার ড্যাম, সূর্যাস্তে ময়ূর পাহাড়
শনি, ৩ অক্টোবর
বামনি ফলস আর তুর্গা ফলস, বিকেলে মুরগুমা
রবি, ৪ অক্টোবর
দুপুরের মধ্যে পুরুলিয়ায় নেমে ১২৮৮৪ রূপসী বাংলা, ১৫:২৫, হাওড়া ২১:১৫
থাকার জায়গা
মুরগুমা ট্যুরিজম প্রপার্টি, ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ দেওয়া ভাড়া ₹২,৭০০ থেকে ₹৪,২০০। বন দফতরের বিশ্রামাগার, একটা পাহাড়চূড়ায়, একটা মাঠায়। পাহাড়ের নীচে বেসরকারি রিসর্ট

Google Maps-এ দেখুন

৫৫:০৭শুনুন: পুরুলিয়ার স্কুলমাস্টার

পুরুলিয়ার স্কুলমাস্টার

221B Harrison Road

পুরুলিয়ার এক স্কুলমাস্টারকে নিয়ে ভূতের গল্প, ৫৫ মিনিটের। চক্রধরপুর এক্সপ্রেস খড়গপুর পেরোনোর পর জানলায় যখন আর কিছু দেখা যায় না, তখনকার জন্য তুলে রাখুন।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · 221B Harrison Road

ঘাটশিলা

পূর্ব সিংভূম, ঝাড়খণ্ড, সুবর্ণরেখার ধারে

এ তালিকায় রাজ্যের বাইরে শুধু ঘাটশিলা। আর এ ট্রিপ তাঁদের, যাঁরা বই পড়েন। ‘আরণ্যক’ আর ‘চাঁদের পাহাড়’-এর লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলেন, ১ নভেম্বর ১৯৫০। স্ত্রীর নামে রাখা তাঁর বাড়ি গৌরীকুঞ্জ এখন ঝাড়খণ্ড সরকারের তত্ত্বাবধানে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যায় সুবর্ণরেখা, চারপাশে রঙ্কিণী মন্দির, বাঁধের পেছনে বুরুডি লেক, ধারাগিরি ঝরনা আর ফুলডুংরি পাহাড়। জনশতাব্দী শুক্রবার ন’টা নাগাদ পৌঁছে দেয়, রবিবার রাতে সেই ট্রেনই ফেরায়। যাওয়ার পথে ‘আরণ্যক’ পড়ুন, অন্তত প্রথম পরিচ্ছেদটা।

শুক্র, ২ অক্টোবর
১২০২১ জনশতাব্দী, হাওড়া ০৬:২০, ঘাটশিলা ০৯:০১। বিকেলে গৌরীকুঞ্জ আর সুবর্ণরেখার পাড়
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে বুরুডি লেক, দুপুরের পর ধারাগিরি ঝরনা
রবি, ৪ অক্টোবর
ভোরে ফুলডুংরি আর রঙ্কিণী মন্দির, তারপর ১২০২২ জনশতাব্দী, ঘাটশিলা ১৭:৩২, হাওড়া ২১:০০
থাকার জায়গা
শহরের ছোট হোটেল আর লজ

Google Maps-এ দেখুন

দিঘা, সঙ্গে শংকরপুর

পূর্ব মেদিনীপুর, পুরোনো সমুদ্রশহর

বাঙালির ‘দীপুদা’, দিঘা-পুরী-দার্জিলিঙের প্রথম নামটা। কলকাতার বেশির ভাগ মানুষের চেনা প্রথম সমুদ্র এটাই, আর ট্রেনে এখনও সবচেয়ে সোজা। দিঘার সৈকত ৭ কিলোমিটারের বেশি, নিউ দিঘা পুরোনো সৈকত থেকে মোটামুটি ২ কিলোমিটার, আর রেল এসেছে ২০০৪-এ। মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম খুলেছে ১৯৮৯-এ, জগন্নাথ মন্দির ২০২৫-এর এপ্রিলে। চন্দনেশ্বরের মন্দির ৮ কিলোমিটার দূরে। ছুটির সপ্তাহান্তে দিঘা ভরা থাকবে। একটু নিরিবিলি সকাল চাইলে উপকূল ধরে পুবে শংকরপুর চলে যান। মন্দারমণির নিয়মটাই এখানেও: উপকূলে সতর্কতা থাকলে সমুদ্র দেখুন পাড় থেকে।

শুক্র, ২ অক্টোবর
১২৮৫৭ তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া ০৬:৪৫, দিঘা ১০:০৫। দুপুরের পর নিউ দিঘার সৈকত
শনি, ৩ অক্টোবর
সকালে শংকরপুর, বিকেলে জগন্নাথ মন্দির আর মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম
রবি, ৪ অক্টোবর
ভোরে চন্দনেশ্বর, তারপর ২২৮৯৮ কাণ্ডারী এক্সপ্রেস, দিঘা ১৯:২০, হাওড়া ২২:৪০। বিকেলটা বাড়িতে চাইলে ১০:৩৫-এর ১২৮৫৮
থাকার জায়গা
রাজ্যের দিঘালি-১ (₹২,৬০০ থেকে ₹৪,২০০) আর দিঘালি-২ (₹৩,২০০ থেকে ₹৩,৫০০), ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউবিটিডিসিএল-এ যেমন দেওয়া। নিউ দিঘায় সব রকমের হোটেল

Google Maps-এ দেখুন

এখনই যা বুক করে রাখবেন

  • আগে ট্রেনের টিকিট। ট্রেন ভরা থাকলে তৎকাল কোটা খোলে যাত্রার আগের দিন: এসি ক্লাসে সকাল ১০টায়, স্লিপার আর সেকেন্ড সিটিংয়ে ১১টায়।
  • বেরোনোর আগেই ঘর। ছুটির সপ্তাহান্তে সরকারি লজ আগে ভরে। ডব্লিউবিটিডিসিএল বা বন উন্নয়ন নিগমের সাইটে বুক করুন, যে ক' রাত থাকবেন ততটুকুরই টাকা দিন।
  • ট্রেনের ট্রিপে পৌঁছে ঘোরার গাড়ি: অযোধ্যার জন্য পুরুলিয়ায়, আমার কুটির যেতে চাইলে বোলপুরে, বুরুডি আর ধারাগিরির জন্য ঘাটশিলায়। বেরোনোর আগে লজ থেকে একটা স্থানীয় নম্বর নিয়ে রাখুন।
  • গাড়ির ট্রিপে কলকাতাতেই তেল ভরে নিন, এনএইচ১৬-এর টোলের জন্য ফাস্ট্যাগে টাকা ভরে রাখুন, আর খড়গপুরের পরের অংশের অফলাইন ম্যাপ নামিয়ে রাখুন।

ট্রেনে কী শুনবেন

তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা মানে তিনটে ভালো গল্প, নয়তো একটা লম্বা। ঘাটশিলার ট্রেনে বিভূতিভূষণের পাতা থেকে তাঁর গল্প শুনুন। যে ট্রেনই হোক, জানলার ধারের সিটে কাকাবাবুর অভিযান জমে ভালো। আর গাড়িতে গেলে আমাদের লং ড্রাইভ মুডে বাংলা, হিন্দি আর ইংরেজি মিলিয়ে ৭৬টা গান আছে, তিন দিনের এনএইচ১৬-এর পক্ষে দরকারের চেয়ে বেশি।

বেরোনোর আগে শেষবার এনটিইএস দেখে নিন। তারপর কলকাতাকে তার পুজোর বাজারের হাতে ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন। রবিবার যখন ফিরবেন, মহালয়া আর ছ’দিন দূরে।

তথ্যসূত্র (১৭)
  • NTES: Train Schedule and Train Exception Info, ভারতীয় রেল (CRIS)। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Tatkal scheme, ভারতীয় রেল। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Jhargram district, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Purulia district, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Climate of Kolkata, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Mandarmani, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Gadiara, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Taki, India, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Jhargram, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Mukutmanipur, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Kangsabati Project, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Santiniketan, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Bishnupur, West Bengal, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Ajodhya Hills, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Ghatshila, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Bibhutibhushan Bandyopadhyay, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • Digha, উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
সদ্য এসেছেগল্পের চ্যানেলে নতুন কী এলসবে যা উঠেছে, বাজে চ্যানেলের নিজের ইউটিউবেই।

মুড কলকাতাকে ফলো করুন

এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।

  1. বেড়ানো

    সিটং (Sittong): কার্শিয়াংয়ের কাছে কমলালেবুর গ্রাম, কমলা পাকে কখন

  2. বেড়ানো

    দার্জিলিং (Darjeeling) যাওয়ার সেরা সময়: মাস ধরে ধরে

  3. বই

    ঘনাদা: কে তিনি, আর তাঁর কোন গল্প আগে শুনবেন

থামানো

হোম স্ক্রিনে MoodKolkata যোগ করুন

  1. ব্রাউজারের বারে শেয়ার-এ চাপুন (উপরে তীর-দেওয়া চৌকো চিহ্ন)।
  2. নীচে নেমে “Add to Home Screen”-এ চাপুন।
  3. “Add”-এ চাপুন। হোম স্ক্রিন থেকে MoodKolkata অ্যাপের মতোই খুলবে।