
উৎসব
দুর্গাপুজো (Durga Puja) ২০২৬: ভিড় এড়িয়ে ঠাকুর দেখা, সপ্তমী থেকে দশমী
শনিবার সন্ধেয় চোরবাগানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুজোর বাকি চার দিন কখন ঠাকুর দেখতে যাবেন, মেট্রো কত রাত অবধি চলছে, ভিড়ে আটকে গেলে কী করবেন, কোন নম্বর ফোনে রাখবেন, বেরোনোর আগে দেখে নিন।
এই লেখায় (৮)
শনিবার, ১৭ অক্টোবর সন্ধে পৌনে আটটা নাগাদ উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনা ঘটে। পুজোটা সারদা পার্কের পুজো নামেও চেনা, গিরিশ পার্ক থানার এলাকায়। তখন জোর বৃষ্টি হচ্ছিল। রবিবার রাত একটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯ জন মারা গেছেন। আহত ২৫ জন, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেন এমন হল, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। হাইকোর্টের এক কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার থেকে কাউকে খুঁজে না পেলে ফোন করুন রাজ্যের টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০ ৩৪৫ ৫৬৭৮-এ, বা এই ঘটনার জন্য খোলা লালবাজার কন্ট্রোল রুমের লাইন ০৩৩ ২২১৪ ১৩১০-এ।
সপ্তমী পড়েছে রবিবার, ১৮ অক্টোবর। বিজয়া দশমী বুধবার, ২১ অক্টোবর। আচারের কথা আছে দুর্গাপুজো ২০২৬: ষষ্ঠী থেকে দশমী, কোন দিন কী লেখায়। এই লেখা শুধু ঠাকুর দেখতে বেরোনো আর বাড়ি ফেরা নিয়ে। কোথাও পরামর্শটা আমাদের নিজের হলে, সেটা বলে দিয়েছি।
কখন বেরোবেন, ফিরবেন কীসে
কোন ঘণ্টায় কোন মণ্ডপে কত লোক হয়, পুলিশ বা সরকারের তরফে তেমন কোনও হিসেব বেরোয়নি। জানা শুধু এটুকু, শনিবারের দুর্ঘটনা ঘটেছিল সন্ধে পৌনে আটটা নাগাদ, বৃষ্টির মধ্যে।
আমরা বলব, সন্ধে নামার মুখে বড় পুজোর লম্বা লাইনে দাঁড়াবেন না। দিনের আলোয় যান, নয়তো রাত গড়ালে। এটা আমাদের পরামর্শ, মাপা তথ্য নয়।
অনেক রাতে ফেরার ভরসা মেট্রো। মেট্রো রেলের ঘোষণা বলছে, পুজোর রাতগুলোয় ব্লু আর গ্রিন লাইনে সারা রাত ট্রেন চলবে। ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর রোজ ব্লু লাইন চলছে দুপুর ১টা থেকে পরদিন ভোর ৪টে নাগাদ পর্যন্ত, দিনে ২৪৮টার মতো ট্রেন। গ্রিন লাইনে প্রথম ট্রেন দুপুর দেড়টায়, শেষটা ভোর ৩টে ৫৯-এ। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, তিন রাতেই তাই দেরি হলেও বাড়ি ফেরার ট্রেন পাবেন।
বিজয়া দশমীর দিন ব্লু লাইন চলবে দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা। ইয়েলো আর পার্পল লাইনে সারা রাতের ট্রেন নেই। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েলো লাইন চলছে বিকেল ৩টে থেকে রাত ১০টা ৫৩ অবধি। পার্পল লাইনে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম ট্রেন বিকেল ৩টেয়, শেষটা রাত ১০টা ৫৫-য়। অরেঞ্জ লাইনে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর কোনও ট্রেনই নেই। কোন মণ্ডপের কাছে কোন স্টেশন, দেখে নিন পুজোর মেট্রো গাইডে।
বৃষ্টি হবে কি?
বড় বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কলকাতা (আলিপুর) পূর্বাভাসে রবিবার আকাশ আংশিক মেঘলা। সোম আর মঙ্গলবার মোটের ওপর পরিষ্কার, বিকেল বা সন্ধের দিকে কিছুটা মেঘ জমতে পারে। বুধবার পরিষ্কার। কোনও দিনের জন্য সতর্কতা নেই। দিনে তাপমাত্রা ৩১-৩২ ডিগ্রির আশপাশে, রাতে ২৫-২৬ ডিগ্রি। কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরও শনিবার বলেছে, পুজোর দিনগুলোয় রাজ্য মোটের ওপর শুকনো থাকবে। দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে, মাঝারি বা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
তবে পূর্বাভাস মিলবেই, এমন নয়। শনিবার সন্ধেয় নেমেছিল জোর বৃষ্টি। ছাতা বা বর্ষাতি সাথে রাখুন।
মণ্ডপে পৌঁছে আগে কী দেখবেন
বেরোনোর রাস্তা। বড় জমায়েতে ভিড় সামলানো নিয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) একটা নির্দেশিকা আছে। দর্শনার্থীদের জন্য তাতে প্রথম কথাটাই হল জায়গাটা চিনে নেওয়া। কোথা দিয়ে ঢুকবেন, কোথা দিয়ে বেরোবেন, ডাক্তারি সাহায্য কোথায় মিলবে। মণ্ডপের লাইনে দাঁড়ানোর আগেই বেরোনোর পথটা দেখে রাখুন।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পুজো গাইড ম্যাপে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স আর মেট্রো স্টেশন দাগানো আছে। একমুখী রাস্তা আর যে সব রাস্তায় গাড়ি ঢুকবে না, সেগুলোও। পুলিশ অবশ্য লিখে রেখেছে, রাস্তার অবস্থা বুঝে ট্রাফিকের ব্যবস্থা বদলাতে পারে।
দল বেঁধে বেরোলে আগেই ঠিক করে নিন, কেউ ছিটকে গেলে কোথায় দেখা হবে। বড় জমায়েতে যাওয়ার আগে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি ঠিক এই পরামর্শই দেয়। এনডিএমএ-র নির্দেশিকা বলছে, সাথে মালপত্র কম রাখুন আর জরুরি নম্বরগুলো লিখে রাখুন। গুজব ছড়াতেও বারণ করেছে।
বাচ্চা আর বয়স্কদের নিয়ে
ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে ফোন করুন ‘বন্ধু কলকাতা’-র ৯১৬৩৭৩৭৩৭৩ নম্বরে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর রোজ বিকেল ৪টে থেকে উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের গাড়ি শহরে ঘুরছে। হারিয়ে যাওয়া শিশু, মহিলা আর বয়স্কদের বাড়ির লোকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই সেই গাড়ির কাজ। দশমীর দিন, ২১ অক্টোবর, গাড়ি থাকবে কি না, পুলিশ বলেনি।
ভিড়ে আটকে গেলে কী করবেন
আটকে পড়ার আগেই বেরিয়ে আসুন। চারপাশে ভিড় খুব ঘন হয়ে আসছে দেখলে সময় থাকতেই সরে যান। পরে সে সুযোগ না-ও থাকতে পারে।
আটকে পড়লে কী করবেন, সিডিসি-র বড় জমায়েত নিয়ে পরামর্শে লেখা আছে। ভিড়ের ধাক্কার সাথে যুঝবেন না, ধাক্কা যেদিকে, সেদিকেই চলুন। চাপ একটু থামলেই কোনাকুনি সরতে সরতে ভিড়ের কিনারায় চলে যান। যতক্ষণ পারেন, দাঁড়িয়ে থাকুন। সিডিসি এ-ও বলছে, হাত দুটো বক্সারের মতো বুকের সামনে তুলে রাখুন, পা মাটিতে শক্ত করে। পড়ে গেলে শরীর গুটিয়ে বলের মতো হয়ে যান, মাথা ঠান্ডা রাখুন আর যত তাড়াতাড়ি পারেন উঠে দাঁড়ান।
এনডিএমএ-র নির্দেশিকা বলছে, সামনের পথ আটকে গেলে ঠেলে এগোবেন না, পেছনেও ঠেলবেন না। যেখানে আছেন, সেখানেই দাঁড়িয়ে যান। পথ না খোলা পর্যন্ত পেছনের লোকেদেরও দাঁড়াতে বলুন।
নামী পুজোর পাশেই কম-চেনা পুজো
শহরের নামী পুজোর কয়েকশো মিটারের মধ্যেই অনেক সময় একটা কম-চেনা পাড়ার পুজো পাবেন। কোন মণ্ডপে কত ভিড় হয়, তার মাপা হিসেব আমাদের হাতে নেই। তাই এগুলো ফাঁকা থাকবেই, এমন কথা বলছি না। আমাদের ধারণা, কম-চেনা মণ্ডপে লাইন ছোট হয়। নীচে দূরত্ব সোজা দাগে মাপা, হাঁটাপথ খানিকটা বেশি পড়বে।
| নামী পুজো | কাছেই | দূরত্ব (সোজা দাগে) |
|---|---|---|
| বাগবাজার সর্বজনীন | বাগবাজার পল্লী | ২৪৩ মিটার |
| আহিরীটোলা সর্বজনীন | আহিরীটোলা যুবক বৃন্দ | ১৯১ মিটার |
| হাতিবাগান সর্বজনীন | শিকদারবাগান সাধারণ দুর্গোৎসব | ২৫৩ মিটার |
| শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব | লেক টাউন অধিবাসী বৃন্দ | ৬০৩ মিটার |
| একডালিয়া এভারগ্রিন | ফাল্গুনী সংঘ | ১৪৩ মিটার |
| বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন | শরৎ চ্যাটার্জি পার্ক | ৩৩৫ মিটার |
| মুদিয়ালি ক্লাব | লেক অ্যাভিনিউ সেবক সংঘ | ১৬৬ মিটার |
প্রতিটা মণ্ডপের পাতায় কাছের মেট্রো স্টেশন আর হাঁটার রাস্তা দেওয়া আছে। বাগবাজার আর আহিরীটোলার চারটে পুজোই শোভাবাজার সুতানুটি স্টেশন থেকে হাঁটাপথে।
কোন পুজোয় ঢোকা বন্ধ
চোরবাগান সর্বজনীনে দর্শনার্থীদের ঢোকা বন্ধ, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সে কথা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে প্রশাসনের কথায় টালা প্রত্যয়, আলিপুর সর্বজনীন আর চেতলা অগ্রণী ক্লাবে দর্শনার্থী ঢোকানো বন্ধ হয়। অ্যালেন পার্কের আলোর শো বাতিল হয়েছে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো কমিটির সভাপতি সজল ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা দর্শনার্থী ঢোকানো কমিয়ে দিয়েছেন।
পুলিশ বলেছে, সিদ্ধান্তটা সাময়িক। রবিবার রাজ্য প্রশাসন আর কলকাতা পুলিশের পর্যালোচনা বৈঠক। তার পরে কোন পুজো খুলবে, কোনটা বন্ধ থাকবে, এখনও ঘোষণা হয়নি। ভিড় সামলানোর নতুন কোনও নির্দেশ, একমুখী রাস্তা বা সময়ের বাঁধনের কথাও পুলিশ এখনও জানায়নি। মেট্রোও সময় বদলের কথা ঘোষণা করেনি। তাই বেরোনোর আগে কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে বা কাছের থানায় খোঁজ নিন।
যে নম্বরগুলো ফোনে রেখে দিন
নম্বরগুলো কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পুজো গাইড, কলকাতা পুলিশ আর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের জরুরি নম্বরের তালিকা থেকে নেওয়া। চোরবাগানের নম্বর দুটো ঘোষণা হয়েছে শনিবার রাতে, ওই ঘটনার জন্যই।
| কীসের জন্য | নম্বর |
|---|---|
| যে কোনও জরুরি অবস্থায় | ১১২ |
| পুলিশ | ১০০ |
| লালবাজার কন্ট্রোল রুম | ০৩৩ ২২৫০ ৫০৯০, ০৩৩ ২২১৪ ৩২৩০ |
| অ্যাম্বুল্যান্স | ১০২, বা ১১২ |
| দমকল | ১০১ |
| কেউ হারিয়ে গেলে: বন্ধু কলকাতা, ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর, বিকেল ৪টে থেকে | ৯১৬৩৭৩৭৩৭৩ |
| লালবাজার মিসিং পার্সনস স্কোয়াড | ০৩৩ ২২৫০ ৫১৫৩, ০৩৩ ২২১৪ ১৮৩৫ |
| শিশুদের হেল্পলাইন | ১০৯৮ |
| মহিলাদের হেল্পলাইন | ১০৯১ |
| ট্রাফিকের হেল্পলাইন, কলকাতা | ১০৭৩ |
| চোরবাগানের ঘটনায় কাউকে খুঁজছেন | ১৮০০ ৩৪৫ ৫৬৭৮ (রাজ্যের টোল-ফ্রি), ০৩৩ ২২১৪ ১৩১০ (লালবাজার) |
রাস্তা বাড়িতে বসেই ঠিক করে নিন
কোন মণ্ডপ থেকে কোনটায় হেঁটে যাবেন, কোন স্টেশনে নামবেন, সেটা বাড়ি থেকেই ছকে নিতে পারেন পুজোর রুট প্ল্যানারে। শহরের মণ্ডপগুলোর ঠিকানা, পাড়া আর কাছের স্টেশন আছে মণ্ডপের তালিকায়। আর বেরোনোর আগে শেষ ট্রেনের সময়টা একবার দেখে নিন। দশমীর রাতে ব্লু লাইনের শেষ ট্রেন সাড়ে ১০টায়।
তথ্যসূত্র (৭)
- কলকাতা (আলিপুর): শহরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- পুজোয় সারা রাত ব্লু আর গ্রিন লাইনের পরিষেবা (ঘোষণা), মেট্রো রেলওয়ে, কলকাতা। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- পুজো গাইড ম্যাপ ২০২৬, কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- হেল্পলাইন, কলকাতা পুলিশ। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- জরুরি নম্বর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- জমায়েতের জায়গায় ভিড় সামলানো: রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকদের নির্দেশিকা (২০১৪), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (গোয়া রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের রাখা প্রতিলিপি)। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
- বড় জমায়েতে যাওয়া: ভ্রমণ-পরামর্শ, সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), যুক্তরাষ্ট্র। দেখা হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬।
মুড কলকাতাকে ফলো করুন
এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।


