মূল অংশে যান
MoodKolkata
নীল আকাশের নীচে বরফে ঢাকা চূড়ার চওড়া সারি, ওপরে পাতলা সাদা মেঘ। সামনে বাদামি ঘাসের ঢাল, তার ওপর নীল চালের দোতলা কাঠের বাড়ি। একেবারে সামনে একটা ন্যাড়া মরা গাছ আর কয়েকটা গুঁড়ি
সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সারি, সামনে রিজের ওপর একটা কাঠের বাড়ি · ছবি: Photo: Amey Meher, Unsplash

বেড়ানো

সান্দাকফু (Sandakphu): ট্রেক না ল্যান্ড রোভার, কোন মাসে যাবেন, বরফ পড়ে কবে

সান্দাকফু পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু জায়গা, ৩,৬৩৬ মিটার, নেপাল সীমান্তের একেবারে গায়ে। কোন মাসে গেলে পাহাড় দেখা যায়, বরফ পড়ে কবে, কলকাতা থেকে ট্রেনে, গাড়িতে, বাসে বা বিমানে মানেভঞ্জন অবধি কীভাবে যাবেন, সেখান থেকে হেঁটে উঠবেন নাকি ল্যান্ড রোভারে, আর কোন খবর মানেভঞ্জনে না পৌঁছে পাওয়া যায় না।

কোয়েল মণ্ডলপ্রকাশ

এই লেখায় (১১)

সান্দাকফু। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু জায়গা, ৩,৬৩৬ মিটার। মেঘ না থাকলে এখান থেকে এভারেস্টও দেখা যায়। জায়গাটা সিঙ্গালিলা রিজের মাথায়। দার্জিলিং জেলা এখানে নেপালের গা ছুঁয়ে আছে। ওঠার পথ দুটো, দুটোই শুরু মানেভঞ্জন থেকে। একটায় কয়েক দিন হাঁটতে হয়, জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল পেরিয়ে। অন্যটা জিপের এবড়োখেবড়ো রাস্তা, পুরোনো ল্যান্ড রোভারে লম্বা ঝাঁকুনির সফর। দুটো পথের শেষে চাওয়া কিন্তু একটাই, একটা পরিষ্কার সকাল। সেই সকাল কোন মাসে? জেলা প্রশাসনের নিজের নোট বলছে, নভেম্বর সাধারণত শুকনো, দূর পর্যন্ত চমৎকার দেখা যায়। আমাদের বাছাইও তাই নভেম্বর। ডিসেম্বরে গেলে বরফও পেতে পারেন। তবে সান্দাকফুর বরফ ছবির মতো নিরীহ নয়। ২০২৬-এর মার্চে সেটা হাড়ে হাড়ে বোঝা গেছে।

সান্দাকফু

সিঙ্গালিলা রিজ, দার্জিলিং জেলা, ভারত-নেপাল সীমান্ত

সান্দাকফু খাটুনির জায়গা। হয় চার দিন পায়ে হাঁটা, নয়তো শক্ত সিটে বসে লম্বা ঝাঁকুনি। বিনিময়ে হিমালয়ের বিরাট দৃশ্য। গরম ঘর চাইলে, প্ল্যান পাকা রাখতে চাইলে বা ঝটপট ঘুরে ফিরতে চাইলে এ জায়গা আপনার নয়। বসন্তেও রাতে ঠান্ডা ভালোই, আর দিন কেমন যাবে, সেটা আবহাওয়ার মর্জি। পাহাড় দেখাটাই আসল হলে নভেম্বর। রডোডেনড্রন দেখতে এপ্রিল বা মে। ডিসেম্বর তখনই, যদি বরফটাই চান আর খারাপ আবহাওয়া কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সময় থাকে। আমরা বলব, দার্জিলিং থেকে অন্তত চার দিন ধরুন, তার ওপর একটা দিন বাড়তি।

উচ্চতা
৩,৬৩৬ মিটার। পশ্চিমবঙ্গে এর চেয়ে উঁচু জায়গা নেই
উদ্যান
সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান। ১৯৮৬ সালে অভয়ারণ্য হয়, ১৯৯২ সালে জাতীয় উদ্যান। চালায় বন দফতরের দার্জিলিং বন্যপ্রাণ বিভাগ
শুরু
মানেভঞ্জন। দার্জিলিং থেকে ২৬-২৮ কিমি, এনজেপি থেকে রাস্তায় প্রায় ৮০ কিমি
পারমিট
মানেভঞ্জনে গিয়ে জেনে নিন। ফি এখন কত, কোনও সরকারি পাতায় লেখা নেই
বন্ধ
বর্ষায়, জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। বন্যপ্রাণ শাখার ২০১৮ সালের পাতায় তাই লেখা ছিল
সাথে রাখুন
ডাউন জ্যাকেট, উলের টুপি আর দস্তানা, মোটা মোজা। যে মরসুমেই যান, একটা হালকা বর্ষাতি। পাসপোর্ট বা ভোটার কার্ডও রাখুন, এটা আমাদের পরামর্শ

Google Maps-এ দেখুন

সান্দাকফু কোথায়, উচ্চতা কত

জেলা প্রশাসনের ট্রেকের নোটে সান্দাকফুর উচ্চতা ৩,৬৩৬ মিটার। সিঙ্গালিলা রিজে এর চেয়ে উঁচু জায়গা নেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গেও নেই। উইকিপিডিয়ার রাজ্যগুলোর উচ্চতার তালিকাতেও সংখ্যাটা এক। তবে অন্য সংখ্যাও ঘোরে। সিঙ্গালিলা উদ্যানের পাতাগুলো লেখে ৩,৬৩০ মিটার। বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে ৩,৬৬৫ মিটার। মিলিয়ে দেখলেই গোলমালটা ধরা পড়ে। ওই পাতাতেই ফুটের হিসেব ১১,৯৩০, আর মিটারে করলে সেটা দাঁড়ায় সেই ৩,৬৩৬-এ। দুই ভাষার উইকিপিডিয়াতেই জায়গাটার আরেকটা নাম আছে, সান্দাকপুর।

চূড়াটা একেবারে সীমান্তের ওপর। উইকিপিডিয়া লিখছে, চূড়ার পশ্চিম ভাগ পড়ে নেপালের ইলাম জেলায়। এই রিজটাই সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের শিরদাঁড়া। উদ্যানটা ১৯৮৬ সালে অভয়ারণ্য হয়, ১৯৯২ সালে জাতীয় উদ্যান। উত্তরে সিকিম, পশ্চিমে নেপাল। উদ্যান চালায় রাজ্য বন দফতরের দার্জিলিং বন্যপ্রাণ বিভাগ। তাদের অফিস দার্জিলিংয়ের মেডো ব্যাংক রোডে, বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে। এ জঙ্গলে রেড পান্ডার বাস। পাখির প্রজাতি উদ্যানের হিসেবে ১২০-র বেশি। আর নামটা? সাধারণত বলা হয়, ‘সান্দাকফু’ মানে বিষাক্ত গাছের চূড়া।

সান্দাকফু যাওয়ার সেরা সময়: পাহাড় দেখতে নভেম্বর

সান্দাকফু যাওয়ার ভালো সময় দুটো, এপ্রিল-মে আর অক্টোবর-নভেম্বর। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের ট্রেকের নোট তাই বলে। দুটোর মধ্যে আমাদের পছন্দ নভেম্বর। নোট নিজেই নভেম্বরকে সাধারণত শুকনো বলেছে, তখন দূর পর্যন্ত চমৎকার দেখা যায়। বর্ষা লম্বা হলে অক্টোবরের প্রথম পনেরো দিনে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম পনেরো দিনকেও নোট ভালো বলেছে। তবে তখন বেশ ঠান্ডা, মাঝেমধ্যে বরফও পড়ে।

বসন্তের টান অন্য। এপ্রিল থেকে মে রিজ জুড়ে রডোডেনড্রন ফোটে। উইকিপিডিয়া আর বন দফতরের পুরোনো পাতা, দুটোই ফুল ফোটার দুটো মরসুম ধরেছে, তার একটা বসন্ত। রাতে অবশ্য তখনও ঠান্ডা কম নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে রিজে রডোডেনড্রন আর পাখির উৎসবের ডাক দিয়েছিল বন দফতর। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল, স্লিপিং ব্যাগ আনতেই হবে।

সান্দাকফুতে বরফ পড়ে কখন?

সান্দাকফুতে বরফ পড়ে শীতে। জেলার নোটে ডিসেম্বরের প্রথম পনেরো দিনে মাঝেমধ্যে তুষারপাতের কথা আছে। ২০২৬ সালে অবশ্য বরফ এল দেরিতে, আর এল ঢেলে। রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ আকাশবাণীর খবর জানাল, সান্দাকফু আর ফালুটে ছয় থেকে দশ ফুট বরফ জমেছে। কয়েকজন পর্যটক আটকে পড়েন। জেলা পুলিশ উদ্ধারে নামে। রাস্তা না খোলা পর্যন্ত বাকিদের ওদিকে না যাওয়ার অনুরোধও করে। একই খবরে ছিল, মার্চের শেষে এত ভারী তুষারপাত পাহাড়ে কুড়ি বছরে হয়নি। অথচ তার আগে গোটা শীতে বরফ পড়েছিল সামান্যই।

সামনে বরফ আর সাদা তুষারকণায় ঢাকা ফার গাছ, পেছনে বরফ-ঢাকা ঢালে নীল আর সবুজ চালের কয়েকটা বাড়ি, মাথার ওপর একটানা ধূসর আকাশ
সান্দাকফুর চূড়ায় বাড়িগুলোর নীচে বরফে ঢাকা ফার গাছ। ছবিটা ২৫ জানুয়ারি ২০১৬-র · ছবি: ছবি: সুজয় সাহা, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY-SA 4.0

তাই কোন দিন বরফ মিলবে, সে কথা কেউ দিতে পারে না। রিজের তুষারপাতের কোনও সরকারি ক্যালেন্ডারও নেই। বরফ দেখতেই যদি যাওয়া, ডিসেম্বর বা জানুয়ারি ধরুন। জানুয়ারির নাম করছি ওপরের ছবিটার জোরে, সেটা ২৫ জানুয়ারির তোলা। দু-এক দিন বাড়তি হাতে রাখুন। ওঠার আগের দিন খবর নিন মানেভঞ্জনে, আর যে আস্তানা বা লজে থাকবেন সেখানে। পুলিশ বা জেলা প্রশাসন সাবধান করলে কথাটা মানুন। মার্চে যে ক’জন ওপরে আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের কথা একবার মনে করুন।

সান্দাকফুর আবহাওয়া: হাতে যেটুকু হিসেব আছে

সান্দাকফুতে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কোনও কেন্দ্র নেই। কাজেই ওখানকার তিরিশ বছরের সরকারি গড়ও নেই। সবচেয়ে কাছের এমন কেন্দ্র দার্জিলিং শহরে, ২,১২৮ মিটার উঁচুতে। সান্দাকফু তার চেয়ে প্রায় ১,৫০০ মিটার ওপরে। শহরের মাস ধরে ধরে হিসেব আছে আমাদের দার্জিলিং যাওয়ার সেরা সময় লেখায়। রিজে উঠলে ঠান্ডা যে তার চেয়ে ঢের বেশি, সেটা ধরেই চলুন।

রিজের তাপমাত্রা বলতে হাতে শুধু জেলা প্রশাসনের আন্দাজ। এপ্রিল-মে মাসে দিনে মোটামুটি ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে ৬ ডিগ্রি। অক্টোবর-নভেম্বরে দিনে ৬ ডিগ্রি, রাতে ১ ডিগ্রি। ডিসেম্বরের প্রথম পনেরো দিন নোটের ভাষায় বেশ ঠান্ডা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস গোটা পাহাড়কে ধরে একসাথে, ‘সাব-হিমালয়ান পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম’ নামে। সান্দাকফুর নাম সেখানে আলাদা করে থাকে না। ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা কুয়াশার সতর্কবার্তা দেখতে ওই পূর্বাভাস কাজে লাগে। চূড়ায় কত ডিগ্রি, সেটা জানতে নয়।

কলকাতা থেকে সান্দাকফু যাবেন কীভাবে: ট্রেন, গাড়ি, বাস আর বিমান

সান্দাকফুর সব রাস্তা গিয়ে মেলে মানেভঞ্জনে। আর কলকাতা থেকে মানেভঞ্জন যেতে হলে শিলিগুড়ির আশপাশের সমতল পেরোতেই হবে। ট্রেনে এলে নামবেন নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে, বিমানে এলে বাগডোগরায়। পাহাড়ের বাস ছাড়ে শিলিগুড়ির বাস টার্মিনাস থেকে। আপাতত গন্তব্য মানেভঞ্জন। রিজে ওঠার কথা পরের অংশে।

ট্রেনে

কলকাতা থেকে সবচেয়ে সহজ রাস্তা শিয়ালদা থেকে রাতের ট্রেন। তার মধ্যে ট্রেকের পক্ষে সুবিধের তিনটে। তিনটেই এনজেপি পৌঁছোয় সকালে, তাই মানেভঞ্জনের পথে গোটা দিনটা হাতে থাকে। নীচের সময় রেলের নিজের, এনটিইএস-এ ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ যেমন ছিল। সময়সূচি বদলায়। যে সপ্তাহে যাবেন, এনটিইএস-এর ‘Train Exception Info’ অংশে নিজের ট্রেনটা একবার দেখে নিন।

কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি), এনটিইএস-এ ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর তালিকা
ট্রেনছাড়েএনজেপি পৌঁছোয়কবে চলে
১৩১৪৭ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসশিয়ালদা, সন্ধে ৭টা ৪০ভোর ৬টা ১৫রোজ
১২৩৪৩ দার্জিলিং মেলশিয়ালদা, রাত ১০টা ১৫সকাল ৭টা ৫০রোজ
১২৩৭৭ পদাতিক এক্সপ্রেসশিয়ালদা, রাত ১১টা ২০সকাল ৯টা ৫রোজ
১৫৯৫৯ কামরূপ এক্সপ্রেস। সোম আর শুক্রবার একই সময়ে ১৫৯৬১হাওড়া, সন্ধে ৬টা ৩৫ভোর ৫টা ১৫১৫৯৫৯ মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শনি, রবি। ১৫৯৬১ সোম, শুক্র
২২৩০১ বন্দে ভারতহাওড়া, ভোর ৫টা ৫৫দুপুর ১টা ৩০বুধবার বাদে

উত্তরবঙ্গ, দার্জিলিং মেল আর পদাতিক, তিনটেতেই ফার্স্ট এসি, এসি টু-টিয়ার, থ্রি-টিয়ার আর স্লিপার কামরা আছে। এনটিইএস-এর তালিকায় দুপুর থেকে সন্ধের মধ্যে ছাড়ে, এমন আরও ট্রেন আছে। হাওড়া থেকে ১২৩৪৫ সরাইঘাট এক্সপ্রেস ছাড়ে বিকেল ৪টে ৫-এ। ২৭৫৭৫ বন্দে ভারত স্লিপার হাওড়া ছাড়ে সন্ধে ৬টা ২০-তে, বৃহস্পতিবার বাদে। শিয়ালদা থেকে ১৩১৪১ তিস্তা তোর্সা ছাড়ে দুপুর ৩টেয়। মুশকিল হল, তিনটেই এনজেপিতে নামায় রাত ১টা ৫ থেকে ২টো ১৫-র মধ্যে। পাহাড়ে ওঠার দিনটা অত রাতে শুরু হলে সেটা মোটেই সুবিধের নয়।

ফেরার পথেও ভরসা ওই তিনটে রাতের ট্রেন। এনজেপি ছাড়ে সন্ধেয়, শিয়ালদা পৌঁছোয় পরদিন সকাল সকাল। প্রথমে ছাড়ে উত্তরবঙ্গ, সন্ধে ৬টা ৫-এ। পদাতিক ছাড়ে সবার শেষে, রাত ৮টা ৩০-এ।

নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে কলকাতা, এনটিইএস-এ ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর তালিকা
ট্রেনএনজেপি ছাড়েপৌঁছোয়কবে চলে
১৩১৪৮ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসসন্ধে ৬টা ৫শিয়ালদা, ভোর ৪টে ৫০রোজ
১২৩৪৪ দার্জিলিং মেলসন্ধে ৭টা ৩০শিয়ালদা, ভোর ৫টা ৩৫রোজ
১২৩৭৮ পদাতিক এক্সপ্রেসরাত ৮টা ৩০শিয়ালদা, সকাল ৬টা ৪৫রোজ
১৫৯৬০ কামরূপ এক্সপ্রেস। সোম আর শুক্রবার একই সময়ে ১৫৯৬২বিকেল ৫টা ২৫হাওড়া, ভোর ৪টে ৪০১৫৯৬০ মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শনি, রবি। ১৫৯৬২ সোম, শুক্র
২২৩০২ বন্দে ভারতদুপুর ২টো ৫৫হাওড়া, রাত ১০টা ৩০বুধবার বাদে

সড়কপথে: গাড়ি আর বাস

গাড়িতে গেলে ওপেনস্ট্রিটম্যাপের রাউটারের হিসেবে এনজেপি থেকে মিরিক হয়ে মানেভঞ্জন মোটামুটি ৮০ কিমি। রাস্তা ফাঁকা পেলে দেড় ঘণ্টার একটু কম লাগে। দার্জিলিং ঘুরে গেলে প্রায় ১০০ কিমি। বাগডোগরা বিমানবন্দর আর শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস, দুটো থেকেই প্রায় ৭০ কিমি। রাউটারের হিসেব ফাঁকা রাস্তার, তাই হাতে সময় নিয়ে বেরোন। কলকাতা থেকে গোটা পথ গাড়িতে গেলে শুধু শিলিগুড়ি পর্যন্তই প্রায় ৫৮৫ কিমি, ফাঁকা রাস্তাতেও প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা। পাহাড় তখনও শুরুই হয়নি। এই জন্যই কলকাতা থেকে রাতের ট্রেন ভালো। মানেভঞ্জনের পরে রিজের রাস্তা রাউটার আর চিনতেই পারে না। শেষ পথটুকুর কথা পরের অংশে।

উচ্চতার সাথে শরীর মানিয়ে নিতে আগে দার্জিলিংয়ে এক রাত থাকাই ভালো। দার্জিলিং থেকে মানেভঞ্জন জেলার হিসেবে ২৬ কিমি, রাউটারের হিসেবে ২৮। জেলা জানাচ্ছে, সুখিয়াপোখরি অবধি জিপ আর বাস চলে, লাগে ঘণ্টাখানেক। সেখান থেকে আরও আধ ঘণ্টায় মানেভঞ্জন। ইচ্ছে হলে শেষ ৪ কিমি হেঁটেও যেতে পারেন। নীচের উপত্যকাগুলোয় ধীরেসুস্থে ঘুরতে চাইলে পড়ুন দার্জিলিংয়ের কম-চেনা গ্রাম আর সিটং নিয়ে আমাদের লেখা।

বাসের কথা দার্জিলিং জেলা প্রশাসন বলেছে অল্পই। পাহাড়ের বাস ছাড়ে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন আর মোটর স্ট্যান্ড থেকে ছোট গাড়িও মেলে, ভাগাভাগি করে বা গোটা গাড়ি ভাড়া নিয়ে। পাহাড়ের এই বাস কখন ছাড়ে, ভাড়া কত, কারা চালায়, কোনও সরকারি পাতায় লেখা নেই। কলকাতা-শিলিগুড়ি বাসের সময়সূচি, ভাড়া বা কলকাতায় ছাড়ার জায়গাও কোনও সরকারি পাতায় মেলে না। তাই কলকাতা থেকে ট্রেনই ধরুন। বাসে যেতে চাইলে খোঁজ নিন নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে (এনবিএসটিসি)।

বিমানে

ভারতে সান্দাকফুর সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর বাগডোগরা (IXB), শিলিগুড়ির কাছে। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, কলকাতা, দিল্লি, গুয়াহাটির মতো বড় শহর থেকে এখানে উড়ান আসে। রাউটারের হিসেবে বাগডোগরা থেকে মানেভঞ্জন রাস্তায় প্রায় ৭০ কিমি, এনজেপি প্রায় ২১ কিমি। বিমানবন্দর চালায় এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তারা আর জেলা প্রশাসন, দু তরফই বলছে, বাগডোগরায় প্রি-পেড ট্যাক্সি মেলে। এনজেপি স্টেশনের প্রি-পেড স্ট্যান্ডের কথা আছে জেলার তালিকায়। ভাড়া কেউই ছাপেনি, কাউন্টারেই জিজ্ঞেস করুন।

মানেভঞ্জন থেকে দুটো পথ: পায়ে হেঁটে, নয়তো পুরোনো ল্যান্ড রোভারে

মানেভঞ্জন। নেপাল সীমান্তের ছোট্ট শহর, উচ্চতা মোটামুটি ১,৫০০ মিটার। দুটো যাত্রাই এখান থেকে শুরু। হাঁটার পথ উঠে গেছে রিজ ধরে। জিপের পাথুরে রাস্তাও টুমলিং আর টংলু ছুঁয়ে যায়। উইকিপিডিয়া লিখছে, টুমলিং থেকে আরেকটা ছোট হাঁটাপথ নেপালের ভেতর দিয়ে কেটে গেছে।

হেঁটে উঠলে জেলার নোট পথটা ভাগ করে দিয়েছে ধাপে ধাপে। প্রথম ধাপ মেঘমা। মানেভঞ্জন থেকে ৭ কিমি খাড়া চড়াই, সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো লাগে। উইকিপিডিয়া বলছে, পথে পড়ে চিত্রে। মেঘমা থেকে আরও ২ কিমি গেলে টংলু, ৩,০৭০ মিটার। এখানে ট্রেকারদের রাত কাটানোর আস্তানা আছে। জেলার নোট তাকে বলে ‘ট্রেকার্স হাট’। ওই নোটেই টংলুর আরেক নাম টুমলিং। উইকিপিডিয়া অবশ্য টংলু আর টুমলিংকে আলাদা জায়গা ধরে, তাই পথে দুটো নামই কানে আসতে পারে। টংলু থেকে পথ ৯ কিমি নেমে যায় গৈরিবাসে (২,৬২১ মিটার)। তারপর রডোডেনড্রনের জঙ্গল ভেদ করে ৬ কিমি চড়াই ভাঙলে কালিপোখরি, মোটামুটি ৩,২০০ মিটার উঁচুতে। নোট বলছে, সেখানকার পুকুরটা কখনও জমে না। এরপর পথ খানিক নেমে যায় বিখেভঞ্জংয়ে। শেষ ৪ কিমি খাড়া চড়াই। সান্দাকফু পৌঁছোতে ঘণ্টাখানেকের বেশি লাগে।

জেলার হিসেবে দার্জিলিং থেকে সান্দাকফু গিয়ে একই পথে ফিরে আসা ১১৮ কিমি, চার দিন। মানেভঞ্জন পর্যন্ত গাড়ির পথটাও তার মধ্যে ধরা। ফালুটও জুড়লে দাঁড়ায় ১৬০ কিমি, ছ’দিন। ফালুটের উচ্চতা ৩,৬০০ মিটার। সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ আর নেপাল ওখানে এসে মিলেছে। ফেরার দিন সকাল ৭টার মধ্যে বেরিয়ে পড়লে মোটামুটি আট ঘণ্টা হেঁটে এক দিনেই মানেভঞ্জনে নেমে আসা যায়। নয়তো মাঝপথে গৈরিবাস বা টংলুতে এক রাত থেকে যান। নামার আরেকটা পথ আছে, গুরদুম আর শ্রীখোলা হয়ে রিম্বিক। জেলা তার তিনটে ধাপের সময় আলাদা আলাদা দিয়েছে। যোগ করলে দাঁড়ায় সাড়ে ছ’ঘণ্টার মতো হাঁটা। রিম্বিক থেকে দার্জিলিং ফেরার গাড়িরাস্তা আছে।

ন্যাড়া গাছ আর ফারের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে উঠে যাওয়া পাথুরে এবড়োখেবড়ো পথ, ঘন মেঘে সব কিছু ধূসর আর ঝাপসা
মেঘে ঢাকা সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে জিপের রাস্তা। ছবিটা ৯ মার্চ ২০২৪-এর · ছবি: ছবি: Alexkom000, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY 4.0

এবার গাড়ির পথ। মানেভঞ্জনকে লোকে চেনে তার পুরোনো ল্যান্ড রোভারের বহরে। ওই গাড়িগুলোই লোক নিয়ে রিজে ওঠে। কটা গাড়ি, কোন মডেল, সে হিসেব এখানে দিচ্ছি না। যেখানে যেখানে ছাপা হয়েছে, কারও সাথে কারও মেলে না। সময়ের কথায় উইকিপিডিয়া বলছে, মোটামুটি চার ঘণ্টা। মিলিয়ে দেখার উপায় নেই। কোনও সরকারি পাতায় সময় লেখা নেই, ওপেনস্ট্রিটম্যাপের রাউটারও রিজের এই রাস্তা চেনে না। তাই চার ঘণ্টাকে একটা আন্দাজ বলেই ধরুন। আবহাওয়া খারাপ হলে সময় আরও বেশি লাগতেই পারে।

কোনটা বাছবেন? হাতে পাঁচ-ছ’দিন আর পায়ে জোর থাকলে হাঁটুন। ধাপে ধাপে উঠলে চূড়ার দৃশ্যটা আসে নিজের খাটুনিতে, আর মাঝের আস্তানাগুলোয় থেমে থেমে চড়াই ভাগ করে নেওয়া যায়। দিন কম হলে, সাথে বয়স্ক মা-বাবা থাকলে কিংবা শীতে গেলে গাড়িই ভালো। কনকনে ঠান্ডায় বাইরে যত কম সময়, তত নিরাপদ। ফালুট পর্যন্ত হাঁটার প্ল্যান থাকলে জেলার একটা সতর্কবার্তা মনে রাখুন। শীতে ফালুট থেকে শ্রীখোলা নামার লম্বা পথটা ধরবেন না, বিকেল ৪টের মধ্যেই অন্ধকার নেমে আসে। কোন মাসের কথা? নোট নাম করেছে নভেম্বর আর মার্চের।

পারমিট, গাইড আর বর্ষার ছুটি

মানেভঞ্জন থেকে হাঁটার পথ আর জিপের রাস্তা, দুটোই গেছে সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে। উইকিপিডিয়ার হিসেবে টুমলিংয়ে উদ্যানের একটা চেকপোস্ট আছে। পারমিটের ফি কত, কোনও সরকারি পাতায় নেই। মানেভঞ্জনে বন দফতরের একটা কেন্দ্র আছে, মানেভঞ্জং নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। শহরে পৌঁছে কয়েকটা কথা জেনে নিন। কোন পারমিট লাগে, কোথায় মেলে। মাথাপিছু ফি এখন কত, ক্যামেরার কত। স্থানীয় গাইড নিতেই হবে কি না। উদ্যানের ভেতরে গাড়ি চলার নিয়মও কোনও সরকারি পাতায় নেই। ল্যান্ড রোভারে ওঠার কথা ভাবলে সেটাও জিজ্ঞেস করে নিন।

বর্ষায় উদ্যান বন্ধ থাকে। বন দফতরের বন্যপ্রাণ শাখার পাতায় তারিখ লেখা ছিল প্রতি বছর ১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর। সেই পাতার ২০১৮ সালের একটা কপি রয়ে গেছে ওয়েব আর্কাইভে। তার পরের কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে নেই। অক্টোবর থেকে মে-র মধ্যে গেলে এ নিয়ে ভাবার কিছু নেই। জুন বা সেপ্টেম্বরে যেতে চাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার আগে বন দফতরের দার্জিলিং বন্যপ্রাণ বিভাগে খোঁজ নিন। অফিসটা দার্জিলিংয়ের বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে।

চূড়া থেকে কী দেখা যায়

আকাশ পরিষ্কার থাকলে সান্দাকফু থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পাঁচটা শৃঙ্গের চারটে দেখা যায়। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে, মাকালু। পাঁচের তালিকা থেকে বাদ পড়ে শুধু কে-টু। উত্তর দিক জুড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর তার লম্বা সারি। সারিটাকে এখানে বলে ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’। জেলার নোট তার পাশে জুড়েছে কাব্রু, জানু আর পান্ডিম। পশ্চিমে অনেক দূরে এভারেস্ট, জেলার হিসেবে প্রায় ১৬০ কিমি। লোৎসে আর মাকালু তার সাথেই, একই দলে।

চওড়া দিগন্তের বাঁ দিকে অনেক দূরে ছোট ছোট বরফের চূড়া, একেবারে সামনে কালচে ফার গাছ আর প্রার্থনা-পতাকার সুতো
সান্দাকফু থেকে দূর দিগন্তে লোৎসে, এভারেস্ট, মাকালু আর চোমো লোনজো, চিত্রগ্রাহকের দেওয়া নামে। ছবিটা ১০ মার্চ ২০২৪-এর · ছবি: ছবি: Alexkom000, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY 4.0

ওপরের ছবিটা দেখুন। এভারেস্ট এখান থেকে ছোট্ট, দূর দিগন্তে লোৎসে আর মাকালুর পাশে এক চিলতে সাদা। দৃশ্য জুড়ে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সারি, এই পাতার মাথার ছবিতে যেমন। সূর্য ওঠার আগেই বাইরে চলে আসুন।

যাওয়ার আগে: উচ্চতা, ঠান্ডা আর পরিচয়পত্র

প্রথম চিন্তা উচ্চতা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে রিজের উৎসবে লোক ডাকার সময় বন দফতর একটা পরামর্শ দিয়েছিল। এক দিন আগে দার্জিলিং পৌঁছে যান। সমতল থেকে হঠাৎ অনেক উঁচুতে উঠলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা হতে পারে বলেই এই পরামর্শ। যে পথেই উঠুন, দিনটা রাখুন। গাড়িতে গেলে আরও বেশি দরকার। উইকিপিডিয়ার চার ঘণ্টার হিসেব ধরলে ল্যান্ড রোভারে একই দিনে মোটামুটি ১,৫০০ মিটার থেকে উঠে যাবেন ৩,৬৩৬ মিটারে।

ঠান্ডা সামলাতে জেলার নোট বলছে মোটা পুলওভার আর উইন্ডচিটার নিতে। ডাউন জ্যাকেট থাকলে খুব কাজে দেবে। শীতে উলের টুপি আর দস্তানা ছাড়া চলবেই না। সাথে নিন বাড়তি মোটা মোজা, যে কোনও মরসুমে একটা হালকা বর্ষাতি, নিজের কিছু খাবার আর জল শোধনের ট্যাবলেট। মানেভঞ্জন ছাড়ার আগে বাড়ির লোককে পুরো প্ল্যানটা জানিয়ে দিন।

রিজের লম্বা সন্ধেয় শোনার গল্প

শীতে রিজে সন্ধে নামে তাড়াতাড়ি। আস্তানা বা লজে তারপর অনেকটা সময় কাটাতে হয়। সেই সময়টা একটা গল্পে ভরিয়ে নিন। শুরু হোক এই পাহাড়েরই ফেলুদা দিয়ে, যাওয়ার পথে ট্রেনে বা চড়াই শুরুর আগের রাতে।

২:১৯:৫৪শুনুন: দার্জিলিং জমজমাট, ফেলুদা

দার্জিলিং জমজমাট, ফেলুদা

Mirchi Bangla

সত্যজিৎ রায় ফেলুদাকে নিয়ে গেছেন দার্জিলিংয়ে, সাথে এক শুটিং দল। দু ঘণ্টা কুড়ি মিনিট, এনজেপির রাতের ট্রেনে শোনার মাপে একেবারে ঠিকঠাক।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

৩:১৭:২৮শুনুন: পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক, কাকাবাবু

পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক, কাকাবাবু

Mirchi Bangla

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু। নামেই পাহাড়ের চূড়া, আর শুনবেন পাহাড়ের মাথায় বসেই। তিন ঘণ্টা সতেরো মিনিট, লজের একটা গোটা সন্ধে ফুরিয়েও খানিকটা বাকি থাকবে।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

২:২৮:৫২শুনুন: তুষার মানবের খোঁজে

তুষার মানবের খোঁজে

Sudhu Golper Jonno

বেছেছি নাম দেখেই। বরফ-পড়া রিজে বসে তুষার মানবের খোঁজ, এমন যোগাযোগ রোজ রোজ হয় না। দু ঘণ্টা উনত্রিশ মিনিট।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Sudhu Golper Jonno

৫১:০৫শুনুন: ডাউহিলের আতঙ্ক, ভুবন ঠাকুর পর্ব ২

ডাউহিলের আতঙ্ক, ভুবন ঠাকুর পর্ব ২

THRILLER LAND

কার্শিয়াংয়ের ডাউহিলে নিখোঁজ এক কিশোর। গল্পটা এই দার্জিলিং পাহাড়েরই। চলে একান্ন মিনিট, গাড়ির রাস্তাতেই শুনে ফেলা যায়।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · THRILLER LAND

আর মানেভঞ্জন থেকে জিপের রাস্তায় ওঠার সময় চালিয়ে দিন একটা গান, আমাদের লং ড্রাইভ মুড থেকে।

৩:৩৪

এই পথ যদি না শেষ হয়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

Saregama Bengali

‘সপ্তপদী’ ছবির গান। উইকিপিডিয়ার হিসেবে জিপে রিজে উঠতে ঘণ্টা চারেক লাগে। ঝাঁকুনির সেই চার ঘণ্টায় কানে বাজছে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। হাসবেন না কাঁদবেন, ভেবে পাবেন না।

লং ড্রাইভ মুডে আরও

সারা বছরে একটা সপ্তাহই যদি হাতে থাকে, সেটা হোক নভেম্বরের মাঝামাঝি। আগে এক রাত দার্জিলিংয়ে কাটিয়ে নিন। চূড়ার সকালে সূর্য ওঠার আগেই বাইরে এসে দাঁড়ান। দার্জিলিং শহর থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সান্দাকফু থেকে, তার সাথে এভারেস্টও।

সান্দাকফু নিয়ে লোকে যা জানতে চায়

সান্দাকফুর উচ্চতা কত?

সান্দাকফুর উচ্চতা ৩,৬৩৬ মিটার, পশ্চিমবঙ্গে এর চেয়ে উঁচু জায়গা নেই। সংখ্যাটা দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের নোটের। বাংলা উইকিপিডিয়া লেখে ৩,৬৬৫ মিটার, কিন্তু ওই পাতারই ১১,৯৩০ ফুটকে মিটারে করলে হয় ৩,৬৩৬।

সান্দাকফু কোন জেলায় অবস্থিত, ভারতে না নেপালে?

সান্দাকফু ভারতে, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায়, রাজ্যের সবচেয়ে উঁচু জায়গা। তবে একেবারে সীমান্তের গায়ে। উইকিপিডিয়া লিখছে, চূড়ার পশ্চিম ভাগ পড়ে নেপালের ইলাম জেলায়। ওঠার পথে একটা ছোট হাঁটাপথ নেপালের ভেতর দিয়েও যায়।

সান্দাকফু যাওয়ার সেরা সময় কখন?

সান্দাকফু যাওয়ার সেরা সময় নভেম্বর, পাহাড় দেখাই যদি আসল উদ্দেশ্য হয়। জেলা প্রশাসনের নোটে ভালো সময় এপ্রিল-মে আর অক্টোবর-নভেম্বর। নোট বলছে, নভেম্বর সাধারণত শুকনো, দূর পর্যন্ত চমৎকার দেখা যায়। রডোডেনড্রন দেখতে চাইলে এপ্রিল-মে, বরফের আশায় ডিসেম্বর।

সান্দাকফু ট্রেক কি কঠিন?

সান্দাকফু ট্রেক কঠিন, আর কষ্টটা মূলত উচ্চতার। উঠতে হয় মোটামুটি ১,৫০০ মিটার থেকে ৩,৬৩৬ মিটারে। তার ওপর দুটো চড়াইকে জেলার নোট খাড়া বলেছে। প্রথমটা মানেভঞ্জন থেকে মেঘমা, ৭ কিমি, সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। শেষটা বিখেভঞ্জং থেকে চূড়া, ৪ কিমি। বসন্তেও রাতে বেশ ঠান্ডা।

সান্দাকফুতে বরফ পড়ে কোন মাসে?

সান্দাকফুতে বরফ পড়ে শীতে, জেলার নোট অনুযায়ী ডিসেম্বরে মাঝেমধ্যে। দেরিতেও পড়তে পারে। ২২ মার্চ ২০২৬ আকাশবাণী খবর দিয়েছিল, সান্দাকফু আর ফালুটে ছয় থেকে দশ ফুট বরফ জমেছে। কবে বরফ পড়বে, তার কোনও সরকারি ক্যালেন্ডার নেই।

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সান্দাকফু খোলা থাকে?

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সান্দাকফু বন্ধ থাকে, এমন কোনও ঘোষণা নেই। উদ্যান বন্ধের যে নিয়ম লেখা আছে, সেটা বর্ষার, জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। তবে ভারী বরফে রাস্তা আটকে যেতে পারে। ২০২৬-এর মার্চে ঠিক তাই হয়েছিল, পুলিশ রাস্তা না খোলা পর্যন্ত পর্যটকদের না যেতে অনুরোধ করেছিল। যাওয়ার আগের দিন মানেভঞ্জনে খোঁজ নিন।

কলকাতা থেকে ট্রেনে সান্দাকফু যাব কীভাবে?

কলকাতা থেকে ট্রেনে সান্দাকফু যেতে হলে শিয়ালদা থেকে রাতের ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পৌঁছোন, সেখান থেকে রাস্তায় মোটামুটি ৮০ কিমি গেলে মানেভঞ্জন। এনটিইএস-এ ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর তালিকা অনুযায়ী তিনটে ট্রেনই রোজ চলে। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ছাড়ে সন্ধে ৭টা ৪০-এ, এনজেপি পৌঁছোয় ভোর ৬টা ১৫-য়। দার্জিলিং মেল রাত ১০টা ১৫-য় ছেড়ে সকাল ৭টা ৫০-এ পৌঁছোয়। পদাতিক এক্সপ্রেস ছাড়ে রাত ১১টা ২০-তে, পৌঁছোয় সকাল ৯টা ৫-এ।

সান্দাকফুর সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর কোনটা?

ভারতে সান্দাকফুর সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর বাগডোগরা, শিলিগুড়ির কাছে। সেখান থেকে মানেভঞ্জন রাস্তায় প্রায় ৭০ কিমি। জেলা প্রশাসন বলছে, কলকাতা থেকেও বাগডোগরার উড়ান আছে, আর বিমানবন্দরে প্রি-পেড ট্যাক্সি পাওয়া যায়। মানেভঞ্জন থেকে ওপরে ওঠা যায় হেঁটে, নয়তো ল্যান্ড রোভারে।

এনজেপি থেকে সান্দাকফু যাব কীভাবে?

এনজেপি থেকে সান্দাকফু যেতে আগে গাড়িতে মানেভঞ্জন, মিরিক হয়ে মোটামুটি ৮০ কিমি, দার্জিলিং ঘুরে প্রায় ১০০ কিমি। জেলা প্রশাসনের পাতা বলছে, এনজেপি স্টেশনে প্রি-পেড ট্যাক্সির স্ট্যান্ড আছে। দার্জিলিং থেকে সুখিয়াপোখরি হয়ে মানেভঞ্জন জিপ আর বাসও যায়। মানেভঞ্জন থেকে রিজে উঠুন হেঁটে, নয়তো ল্যান্ড রোভারে।

মানেভঞ্জন থেকে গাড়িতে সান্দাকফু কত দূর, কতক্ষণ লাগে?

মানেভঞ্জন থেকে গাড়িতে সান্দাকফু উঠতে উইকিপিডিয়ার হিসেবে ঘণ্টা চারেক লাগে, পুরোনো ল্যান্ড রোভারে, জাতীয় উদ্যানের ভেতরের জিপের রাস্তায়। দূরত্ব বা সময়, কোনওটাই কোনও সরকারি পাতায় নেই। ওপেনস্ট্রিটম্যাপের রাউটারও রিজের রাস্তাটা ধরতে পারে না। তাই চার ঘণ্টা একটা আন্দাজমাত্র, খারাপ আবহাওয়ায় আরও সময় হাতে রাখুন।

তথ্যসূত্র (১৬)

ছবি: সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সারি, সামনে রিজের ওপর একটা কাঠের বাড়ি: Photo: Amey Meher, Unsplash

সদ্য এসেছেগল্পের চ্যানেলে নতুন কী এলসবে যা উঠেছে, বাজে চ্যানেলের নিজের ইউটিউবেই।

মুড কলকাতাকে ফলো করুন

এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।

  1. বেড়ানো

    অযোধ্যা পাহাড় (Ajodhya Hills): কখন যাবেন, কলকাতা থেকে কীভাবে, কী দেখবেন

  2. বেড়ানো

    সিটং (Sittong): কার্শিয়াংয়ের কাছে কমলালেবুর গ্রাম, কমলা পাকে কখন

  3. বেড়ানো

    দার্জিলিং (Darjeeling) যাওয়ার সেরা সময়: মাস ধরে ধরে

থামানো

হোম স্ক্রিনে MoodKolkata যোগ করুন

  1. ব্রাউজারের বারে শেয়ার-এ চাপুন (উপরে তীর-দেওয়া চৌকো চিহ্ন)।
  2. নীচে নেমে “Add to Home Screen”-এ চাপুন।
  3. “Add”-এ চাপুন। হোম স্ক্রিন থেকে MoodKolkata অ্যাপের মতোই খুলবে।