মূল অংশে যান
MoodKolkata

বৃহস্পতিবার ১৯ নভেম্বর

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২৬: কবে, কোথায়, কীভাবে

চন্দননগর। হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে মোটামুটি ৪৩ মিনিট। জগদ্ধাত্রী পুজোর কয়েকটা দিন এ শহরের পাড়ায় পাড়ায় প্রতিমা, রাস্তায় রাস্তায় আলো। শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমা যায় গঙ্গায়। এবার নবমী পড়ছে বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর। নীচে দিনক্ষণ, যে পুজোগুলোর নাম জেনে রাখবেন, স্ট্র্যান্ড, যাওয়া-ফেরার ট্রেন আর গাড়ির পথ। কী কী এখনও ঘোষণা হয়নি, সেটাও লেখা রইল।

আপডেট:

জগদ্ধাত্রী প্রতিমার মুখ, কাছ থেকে: কপালে তৃতীয় নয়ন, মাথায় সোনালি মুকুট, নাকে নথ
দেবীর মুখ। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে এক আলোকচিত্রীর ছবির সিরিজ থেকে।Photo: arpan712105 / Freepik

এই গাইডে যা পাবেন

  • দিনক্ষণ: নবমী পড়ছে বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর। কমিটির নিজের সূচি এখনও ঘোষণা হয়নি।
  • যে পুজোগুলোর নাম জেনে রাখবেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নিজের ম্যাপ থেকে।
  • স্ট্র্যান্ড, গঙ্গার ধারে গাছে ঢাকা পথ।
  • হাওড়া থেকে ট্রেন: ৪৩ মিনিটের মতো। যাওয়া-ফেরার প্রথম আর শেষ ট্রেন।
  • গাড়িতে, আর বিমানবন্দর থেকে।
  • পুলিশ, রেল আর কমিটি এখনও যা জানায়নি।

বৃহস্পতিবার ১৯ নভেম্বর

–দিন
–ঘণ্টা
–মিনিট
–সেকেন্ড

বৃহস্পতিবার ১৯ নভেম্বর

দৃকপঞ্জিকা মতে নবমীর পুজো বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৬। নবমী তিথি লাগছে বুধবার, ১৮ নভেম্বর ভোর ৬টা ৪ মিনিটে, ছাড়ছে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে। বৃহস্পতিবারের সূর্যোদয়ে নবমী চলছে বলে পুজো সেদিনই। দশমী তিথি লাগছে বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর সকাল ৭টা ৫ মিনিটে, ছাড়ছে শুক্রবার, ২০ নভেম্বর সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। তাই শুধু পঞ্জিকা দেখে শোভাযাত্রার রাত আন্দাজ করা যাবে না। চন্দননগরের নিজের সূচি আর শোভাযাত্রার তারিখ ঠিক করে কেন্দ্রীয় কমিটি। দুটোর কোনওটাই এখনও ঘোষণা হয়নি।

আলো, আর প্রতিমার মুখ

চন্দননগরের আলো বানান এ শহরেরই কারিগররা। সেই আলো যায় বাংলার নানা উৎসবে, ভারতের অন্য রাজ্যে, বিদেশেও। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হিসেবে পুজোর সময় আলো জ্বলে পঞ্চমী থেকে দশমী। শোভাযাত্রাও চলে আলো নিয়েই। নড়েচড়ে ওঠা আলোর প্যানেলের কৃতিত্ব শ্রীধর দাসের। ইংরেজি উইকিপিডিয়া সেকথা লিখেছে। সৌমিত্র সরকারের একটা গবেষণাপত্রেও চন্দননগরের আলোর খ্যাতির মূল মানুষ বলা হয়েছে তাঁকেই। সেটা বেরিয়েছিল ২০২৪ সালে, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান জার্নালে। সৌমিত্র তাঁকে বলেছেন ‘আলোর জাদুকর’। ওই লেখাতেই আরেকটা কথা আছে। মণ্ডপ যত নতুন ধাঁচেরই হোক, দেবীর মুখ থাকে সাবেকি। এখানে পুজো ঠিক কবে, কীভাবে শুরু, নিশ্চিত করে জানা নেই। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার লেখাও শুরু হয়েছে ঠিক এই কথাটা দিয়ে।

যে পুজোগুলোর নাম জেনে রাখবেন, আর স্ট্র্যান্ড

এখানে যে কটা পুজোর নাম, সবই আছে কেন্দ্রীয় কমিটির নিজের ম্যাপে, ২০১৯ সালের সংস্করণে। অন্তত আরও একটা সূত্রেও আছে। আগে-পরে সাজানোয় ছোট-বড়র কোনও হিসেব নেই। ২০২৬-এর ম্যাপ এখনও বেরোয়নি।

  • লক্ষ্মীগঞ্জ আর হালদারপাড়া

    কলকাতার বাইরে

    চন্দননগর

    শহর যেগুলোকে পুরোনো পুজো বলে চেনে। লক্ষ্মীগঞ্জ চাউলপট্টিতে আদি মা। স্থানীয়দের হিসেবে বয়স মোটামুটি তিনশো বছর, তবে এক-এক সূত্রে সংখ্যাটা এক-এক রকম। লক্ষ্মীগঞ্জের একই বাজার এলাকায় লক্ষ্মীগঞ্জ কাপড়েপট্টির পুজো। বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে, হালদারপাড়ার আদি পুজোকে লোকে চেনে অশ্বত্থতলার বুড়িমা নামে।

  • গোন্দলপাড়া

    কলকাতার বাইরে

    চন্দননগর

    একই পাড়ার দুটো নাম, দুটোই কমিটির ম্যাপে: গোন্দলপাড়া অম্বিকা অ্যাথলেটিক ক্লাব আর গোন্দলপাড়া মরান রোড।

  • বাগবাজার, বড়বাজার, নিয়োগীবাগান, আরও কয়েকটা

    কলকাতার বাইরে

    চন্দননগর জুড়ে

    কমিটির ম্যাপে আর অন্য একটা সূত্রে, দুই জায়গাতেই পাওয়া যায় এই নামগুলোও: বাগবাজার, বড়বাজার, নিয়োগীবাগান, মধ্যাঞ্চল, পালপাড়া, তেমাথা। মনে রাখবেন, এই বাগবাজার আর বড়বাজার চন্দননগরের পাড়া, কলকাতার নয়।

  • স্ট্র্যান্ড

    কলকাতার বাইরে

    গঙ্গার ধারে, চন্দননগর

    গঙ্গার ধারে গাছে ঢাকা পথ। হুগলি জেলা প্রশাসন আর ইংরেজি উইকিপিডিয়া, দুটোতেই এভাবেই লেখা। এ পথের ধারে-কাছেই স্যাক্রেড হার্ট চার্চ আর চন্দননগর মিউজিয়াম ও ইনস্টিটিউট। বাংলা উইকিপিডিয়ার মতে বিসর্জন হয় রানিঘাটে, স্ট্র্যান্ডের ধারের ঘাট সেটা। আমাদের ম্যাপের মাপে স্টেশন থেকে হাঁটাপথ মোটামুটি ২ কিলোমিটার, লাগে আধ ঘণ্টার মতো।

    কাছের রেলস্টেশন: চন্দননগর, ১.৮ কিমি

কলকাতা থেকে চন্দননগর কীভাবে যাবেন

ট্রেনে

চন্দননগর স্টেশন (কোড CGR) হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হিসেবে হাওড়া থেকে রেলপথে ৩৩ কিলোমিটারের মতো। হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল বা বর্ধমান লোকালে লাগে ৩১ থেকে ৪৭ মিনিট, সাধারণত ৪৩ মিনিটের মতো। রোজের লোকাল হাওড়া ছাড়ে ভোর ৪টে ১৫ থেকে রাত ১১টা ৪৫ পর্যন্ত, ১০ থেকে ৩০ মিনিট অন্তর। ফেরার পথে চন্দননগর থেকে রোজের শেষ লোকাল রাত ১০টা ৫৬-য়। তারপর রাত ১১টা ২২-এ একটা মেমু। ভোরের প্রথম লোকাল ৩টে ১৮-য়। সময় বদলাতে পারে, বেরোনোর আগে এনটিইএস দেখে নিন। টিকিট কাটা যায় রেলওয়ান অ্যাপে।

চলতি ট্রেন: এনটিইএস (ভারতীয় রেল)

গাড়িতে

শহরের ভেতর দিয়েই গেছে জিটি রোড (গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড, রাজ্য সড়ক ৬)। মধ্য কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব মোটামুটি ৪০ কিলোমিটার। পুজোর রাতে গাড়ি কোথায় রাখবেন, কোন রাস্তায় ঢোকা বারণ, পুলিশের সেই নির্দেশিকা ২০২৬-এর জন্য এখনও বেরোয়নি। বাস: কলকাতা থেকে কোন রুটের বাস যায়, কোনও পরিবহণ সংস্থার কাছে তা মিলিয়ে নিতে পারিনি। তাই রুট নম্বর দিচ্ছি না।

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট

বিমানে

সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর কলকাতার দমদমে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে সড়কপথে মোটামুটি ৪০ কিলোমিটার। যানজটে ঘণ্টাখানেক বা তার বেশি লাগতে পারে। নয়তো হাওড়া এসে লোকাল ধরুন।

পুজোর রাতগুলোয়

এবারের পুজোয় গাড়ি চলাচল, পার্কিং বা নো-এন্ট্রি নিয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এখনও কোনও নির্দেশিকা দেয়নি। জগদ্ধাত্রী পুজোর রাতে পূর্ব রেলের বিশেষ ট্রেনের খবর এখনও চোখে পড়েনি। কেন্দ্রীয় কমিটির ২০২৬-এর ম্যাপ বা শোভাযাত্রার পথও এখনও বেরোয়নি। আন্দাজ পেতে চাইলে ২০১৯-এর কথা বলা যায়। সে বছর কমিটির নিজের ম্যাপে দাগানো ছিল শোভাযাত্রার পথ, নো-এন্ট্রির জায়গা, পুলিশের সহায়তা কেন্দ্র আর আলাদা পার্কিং। সেটা ২০১৯-এর ম্যাপ, এ বছরের নয়। যা ঘোষণা হবে, এখানেই জুড়ে দেব।

রাতের জন্য একটা গল্প

পুজোচালিয়ে রাখুন

ব্লগে পড়ুন

যে প্রশ্নগুলো অনেকে করেন

জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য কোন জায়গা বিখ্যাত?

হুগলির চন্দননগর আর নদিয়ার কৃষ্ণনগর। হুগলি জেলা প্রশাসনের নিজের পাতাতেই লেখা আছে, এ দেবীর পুজোর জন্য বিখ্যাত দুই শহর কৃষ্ণনগর আর চন্দননগর।

চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত কেন?

পাড়ায় পাড়ায় পুজো, সব এক কেন্দ্রীয় কমিটির ছাতার নীচে। তার সাথে শহরের কারিগরদের বানানো আলো, আর শোভাযাত্রা। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হিসেবে শোভাযাত্রা চলে দশমীর রাত থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত। বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে, বিসর্জন হয় স্ট্র্যান্ডের রানিঘাটে। সেখানেই লেখা, কোন ৭৫ থেকে ৮০টা পুজো শোভাযাত্রায় যাবে, প্রতি বছর ঠিক হয় লটারিতে।

জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২৬ কবে পড়ছে?

দৃকপঞ্জিকা মতে নবমীর পুজো বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৬। নবমী তিথি লাগছে বুধবার, ১৮ নভেম্বর ভোর ৬টা ৪ মিনিটে, ছাড়ছে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে। দশমী ছাড়ছে শুক্রবার, ২০ নভেম্বর সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। চন্দননগরের নিজের সূচি আর শোভাযাত্রার তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি।

চন্দননগরের শোভাযাত্রা ২০২৬ কবে?

এ বছরের শোভাযাত্রার তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। দিন আর পথ প্রতি বছর ঠিক করে কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘোষণা হলেই এখানে জুড়ে দেব।

হাওড়া থেকে চন্দননগর কীভাবে যাব, ফেরার শেষ ট্রেন কখন?

চন্দননগর যেতে হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল বা বর্ধমান লোকাল ধরুন, নামুন চন্দননগর স্টেশনে। লাগে ৪৩ মিনিটের মতো। ফেরার পথে রোজের শেষ লোকাল চন্দননগর ছাড়ে রাত ১০টা ৫৬-য়, তারপর রাত ১১টা ২২-এ একটা মেমু। যাওয়ার দিন এনটিইএস দেখে নিন। পুজোর বিশেষ ট্রেনের খবর এখনও চোখে পড়েনি।

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর ২০২৬-এর ম্যাপ আছে?

এখনও নয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় কমিটি নিজেই একটা ম্যাপ ছেপেছিল। তাতে পুজোগুলো নম্বর দিয়ে দাগানো, সাথে শোভাযাত্রার পথ, নো-এন্ট্রি আর পার্কিং। ২০২৬-এর ম্যাপের ঘোষণা এখনও হয়নি।

কাউকে পাঠান

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান

কমিটির সূচি, শোভাযাত্রার তারিখ, পুলিশের নির্দেশিকা আর বিশেষ ট্রেনের খবর বেরোলে এখানেই জুড়ে দেব। জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২৬ · কালীপুজো ২০২৬ · বাংলা পঞ্জিকা

থামানো

হোম স্ক্রিনে MoodKolkata যোগ করুন

  1. ব্রাউজারের বারে শেয়ার-এ চাপুন (উপরে তীর-দেওয়া চৌকো চিহ্ন)।
  2. নীচে নেমে “Add to Home Screen”-এ চাপুন।
  3. “Add”-এ চাপুন। হোম স্ক্রিন থেকে MoodKolkata অ্যাপের মতোই খুলবে।