মূল অংশে যান
MoodKolkata
চকচকে লাল কাঠের টেবিলে দুটো পিতলের আতশকাচ। পিছনে কাপড়ে বাঁধাই পুরোনো বইয়ের গাদা, একটা পিতলের দূরবিন আর পুরোনো একটা পাইপ
টেবিলে আতশকাচ, পিছনে পুরোনো বইয়ের থাক

বই

ফেলুদা গোড়া থেকে: সত্যজিৎ রায়ের ৩৫টা গল্প, যে ক্রমে লেখা

সত্যজিৎ রায়ের লেখা ৩৫টা সম্পূর্ণ ফেলুদা, ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৬। নীচে সবক’টা সাজানো আছে প্রথম ছাপার ক্রমে। কোনটা কোন পত্রিকায় বেরিয়েছিল, পাশেই লেখা। ২৩টা এখানেই শুনতে পাবেন।

ঈশিতা ঘোষপ্রকাশ

১৯৬৫-র ডিসেম্বর। ‘সন্দেশ’-এর পাতায় বেরোতে শুরু করল ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’। পত্রিকাটা রায়বাড়ির নিজের। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় ফেলুদার পাতা মনে করিয়ে দেয়, ‘সন্দেশ’ শুরু করেছিলেন সত্যজিতের ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। ১৯৬১-তে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে সাথে নিয়ে সত্যজিৎ পত্রিকাটা আবার চালু করেন। ১৯৬৫-তে সম্পাদকদের একজন তিনি নিজেই। ফেলুদার জন্ম তাই ঘরের পত্রিকায়। প্রথম গল্পটা আমাদের শোনায় তোপসে। পরের প্রতিটা গল্পও সে-ই বলে। তারপর তিরিশ বছর ধরে নতুন ফেলুদা আসত বেশির ভাগ সময় ‘দেশ’ বা ‘সন্দেশ’-এর পুজোসংখ্যায়। সেই জন্যই আমাদের অনেকের কাছে ফেলুদা আজও শরৎকালের লোক।

ক্রম মেনে পড়ব কেন? তাক গোছানোর আরাম তো আছেই, আসল কারণ অন্য। লম্বা উপন্যাসে যেমন একটা পরিবার একটু একটু করে বাড়ে, ফেলুদার দলও তেমনই বড় হয়েছে গল্পে গল্পে। ‘সোনার কেল্লা’-র আগে জটায়ু নেই। রাজস্থানের ট্রেনে ফেলুদা আর তোপসের সাথে লালমোহনবাবুর আলাপ ওই উপন্যাসেই। খলনায়কদের মধ্যে মগনলাল মেঘরাজ ফিরে ফিরে আসে। তার সাথে ফেলুদার প্রথম দেখা ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এ। এবার ধরুন, আপনি মাঝখান থেকে পড়তে শুরু করলেন। পাতা ওল্টাতেই হয়তো জটায়ু হাজির। অথচ তাঁর সাথে আপনার আলাপই করিয়ে দেয়নি কেউ।

৩৫টা কাহিনি, প্রথম থেকে শেষ

নীচের ক্রম আর সাল দুটো তালিকা মিলিয়ে সাজানো, একটা ইংরেজি উইকিপিডিয়ার, অন্যটা বাংলা উইকিপিডিয়ার। দু’একটা জায়গা বাদে ক্রম নিয়ে দুটোই একমত। কোথাও সাল বা পত্রিকা নিয়ে দু’রকম কথা থাকলে, তালিকার সেই ঘরেই সেটা লেখা আছে। এক বছরে দুটো গল্প বেরোলে কোনটা আগে, সেখানে আমরা বাংলা পাতার ক্রম মেনেছি। যেমন ১৯৭৫-এর ‘ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা’ আর ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’। ‘কৈলাসে কেলেঙ্কারি’-র জায়গাও বাংলা পাতা থেকে নেওয়া। ব্যতিক্রম শুধু ‘গোলাপী মুক্তা রহস্য’। বাংলা তালিকায় এর কোনও তারিখ নেই, সেখানে গল্পটা বসেছে ‘রবার্টসনের রুবি’-র পরে। আমরা রেখেছি ইংরেজি তালিকার জায়গায়, ১৯৮৯ সালে।

ফেলুদা, প্রথম ছাপার ক্রমে
#কাহিনিপ্রথম বেরিয়েছিলএখানে শুনুন
১ফেলুদার গোয়েন্দাগিরিসন্দেশ, ডিসেম্বর ১৯৬৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬শুনুন
২বাদশাহী আংটিসন্দেশ, মে ১৯৬৬ থেকে মে ১৯৬৭শুনুন
৩কৈলাস চৌধুরীর পাথরশারদীয় সন্দেশ, ১৯৬৭এখনও নেই
৪শেয়াল-দেবতা রহস্যসন্দেশ, মে-জুন ১৯৭০শুনুন
৫গ্যাংটকে গণ্ডগোলশারদীয় দেশ, ১৯৭০শুনুন
৬সোনার কেল্লাশারদীয় দেশ, ১৯৭১এখনও নেই
৭বাক্স-রহস্যশারদীয় দেশ, ১৯৭২শুনুন
৮কৈলাসে কেলেঙ্কারিশারদীয় দেশ, ১৯৭৩ বা ১৯৭৪ (সূত্রে দু’রকম)শুনুন
৯সমাদ্দারের চাবিশারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৩শুনুন
১০রয়েল বেঙ্গল রহস্যশারদীয় দেশ, ১৯৭৪শুনুন
১১ঘুরঘুটিয়ার ঘটনাশারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৫শুনুন
১২জয় বাবা ফেলুনাথশারদীয় দেশ, ১৯৭৫এখনও নেই
১৩বোম্বাইয়ের বোম্বেটেশারদীয় দেশ, ১৯৭৬শুনুন
১৪গোঁসাইপুর সরগরমশারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৬এখনও নেই
১৫গোরস্থানে সাবধান!শারদীয় দেশ, ১৯৭৭এখনও নেই
১৬ছিন্নমস্তার অভিশাপশারদীয় দেশ, ১৯৭৮শুনুন
১৭হত্যাপুরীশারদীয় সন্দেশ, ১৯৭৯শুনুন
১৮গোলকধাম রহস্যসন্দেশ, মে-অগস্ট ১৯৮০শুনুন
১৯যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতেশারদীয় দেশ, ১৯৮০শুনুন
২০নেপোলিয়নের চিঠিশারদীয় সন্দেশ, ১৯৮১এখনও নেই
২১টিনটোরেটোর যীশুশারদীয় দেশ, ১৯৮২শুনুন
২২অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্যআনন্দমেলা, মে-জুন ১৯৮৩শুনুন
২৩জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রাশারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৩শুনুন
২৪এবার কাণ্ড কেদারনাথেশারদীয় দেশ, ১৯৮৪শুনুন
২৫বোসপুকুরে খুনখারাপিশারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৫শুনুন
২৬দার্জিলিং জমজমাটশারদীয় দেশ, ১৯৮৬শুনুন
২৭অপ্সরা থিয়েটারের মামলাশারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৭এখনও নেই
২৮ভূস্বর্গ ভয়ংকরশারদীয় দেশ, ১৯৮৭শুনুন
২৯শকুন্তলার কণ্ঠহারশারদীয় দেশ, ১৯৮৮এখনও নেই
৩০গোলাপী মুক্তা রহস্য১৯৮৯ (পত্রিকার নাম নিয়ে সূত্রে দু’রকম)এখনও নেই
৩১লন্ডনে ফেলুদাশারদীয় দেশ, ১৯৮৯শুনুন
৩২ডাঃ মুনসীর ডায়রিশারদীয় সন্দেশ, ১৯৯০শুনুন
৩৩নয়ন রহস্যশারদীয় দেশ, ১৯৯০এখনও নেই
৩৪রবার্টসনের রুবিশারদীয় দেশ, ১৯৯২এখনও নেই
৩৫ইন্দ্রজাল রহস্যসন্দেশ, ডিসেম্বর ১৯৯৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬এখনও নেই

কোন গল্প দিয়ে শুরু করবেন

শুরু করুন ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’ দিয়ে। সত্যজিৎও এখান থেকেই শুরু করেছিলেন। রেকর্ডিংটা এক ঘণ্টার কম, এক সন্ধেয় শেষ। পরেরটায় অবশ্য একটা গোটা রবিবার লেগে যাবে। নীচের তিনটে গল্পে জটায়ু তখনও আসেননি। কেস ছোট, আর ফেলুদার পুঁজি বলতে মগজাস্ত্র।

৫৯:২৩শুনুন: ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি

ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি

Mirchi Bangla

ফেলুদার প্রথম কেস। দার্জিলিঙে ছুটি কাটাচ্ছে ফেলুদা আর তোপসে। সেখানে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক পুরোনো দুষ্প্রাপ্য জিনিস জমান, তাঁর নামে আসে একটা হুমকির চিঠি। মির্চি বাংলার সানডে সাসপেন্সে, চলে ৫৯ মিনিট।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

২:৫৩:৩১শুনুন: বাদশাহী আংটি

বাদশাহী আংটি

Mirchi Bangla

প্রথম উপন্যাস। ঘটনা লখনউয়ে, আর গোটা ব্যাপারটা একটা চুরি যাওয়া আংটি নিয়ে। মির্চি বাংলার সানডে সাসপেন্সে এটা ২ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের। কোনও ফাঁকা রবিবারের জন্য তুলে রাখুন।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

৫৯:৪৭শুনুন: শেয়াল-দেবতা রহস্য

শেয়াল-দেবতা রহস্য

Mirchi Bangla

এবার কলকাতা। এক সংগ্রাহকের বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় আনুবিসের মূর্তি। আনুবিস মিশরের দেবতা, মাথাটা শেয়ালের। মির্চি বাংলার সানডে সাসপেন্সে, ঘণ্টাখানেকের গল্প।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

৩৫টার মধ্যে বাকি ১২টা এখনও সাইটে আসেনি। দুঃখের কথা, ‘সোনার কেল্লা’ আর ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ও তার মধ্যে পড়ে। ৩৫টাই একসাথে চাইলে নীচের বইটা আছে।

ফেলুদা সমগ্র (১-২)

সত্যজিৎ রায় · আনন্দ পাবলিশার্স

দুই খণ্ডে গোটা ফেলুদা, ছেপেছে সত্যজিতের নিজের প্রকাশক। শক্ত মলাটের বই। আনন্দ পাবলিশার্সের দোকানে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দাম ছিল ২,২০০ টাকা (ভারতীয়)। গলায় শোনার পর ছাপা পাতায় পড়ার মজাটা আলাদা। আরেকটা পাওনাও আছে। বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে, ফেলুদার বেশির ভাগ বইয়ের মলাট আর ছবি সত্যজিৎ নিজের হাতে এঁকেছিলেন।

কিনুন: আনন্দ পাবলিশার্স

তথ্যসূত্র (৩)
সদ্য এসেছেগল্পের চ্যানেলে নতুন কী এলসবে যা উঠেছে, বাজে চ্যানেলের নিজের ইউটিউবেই।

মুড কলকাতাকে ফলো করুন

এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।

  1. বই

    ঘনাদা: কে তিনি, আর তাঁর কোন গল্প আগে শুনবেন

  2. বই

    নামের উচ্চারণ, জাতের প্রশ্ন: জেএনইউ-তে স্পিভাক

  3. কলকাতা

    শীতের কলকাতা: কোন মাসে কতটা ঠান্ডা, আর মরসুমের যত পাওনা

থামানো

হোম স্ক্রিনে MoodKolkata যোগ করুন

  1. ব্রাউজারের বারে শেয়ার-এ চাপুন (উপরে তীর-দেওয়া চৌকো চিহ্ন)।
  2. নীচে নেমে “Add to Home Screen”-এ চাপুন।
  3. “Add”-এ চাপুন। হোম স্ক্রিন থেকে MoodKolkata অ্যাপের মতোই খুলবে।