
শোনা
তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প: কোনটা দিয়ে শুরু, কোনটা কার লেখা
বিভূতিভূষণ তারানাথকে নিয়ে গল্প লিখেছিলেন মাত্র দুটো। বাকি বইগুলো তাঁর ছেলে আর নাতিদের লেখা। কোন অডিও গল্প কার লেখা, আর আমরা হলে কোন ক্রমে শুনতাম, এখানে তারই হিসেব।
এই লেখায় (৬)
প্রথম দেখায় তারানাথ মোটেই নায়ক নন। মধ্য কলকাতার মট লেনে এক বাড়িতে থাকেন প্রৌঢ় জ্যোতিষী তারানাথ চক্রবর্তী, হাত দেখে আর কোষ্ঠী বানিয়ে সংসার চালান। স্ত্রী আছেন, ছেলেমেয়ে আছে, টাকাপয়সার টানাটানিও আছে। ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে, তন্ত্রের অপব্যবহারে বেশির ভাগ ক্ষমতাই তিনি খুইয়েছেন। গল্পগুলো অবশ্য খোয়াননি।
দুই যুবক আসেন, কথক আর তাঁর বন্ধু কিশোরী। মেয়ে চারি এসে চা-মুড়ি দিয়ে যায়। চা আর সিগারেটের ফাঁকে তারানাথ খুলে বসেন পুরোনো দিনের ঝুলি। কলম যাঁর হাতেই থাকুক, গল্পের কাঠামো ওই ঘরটাই। মীর আফসার আলির চ্যানেলে তারানাথের যে ছ’টা গল্প, তার প্রত্যেকটার শিল্পী-তালিকায় কিশোরী আছেন, জুলাই ২০২৬-এর নতুনটাতেও। মির্চি বাংলার ‘বেতাল’, ‘ব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তি’ আর ‘দেবদর্শন’-এও তিনি আছেন।
তারানাথ তান্ত্রিক কার লেখা?
তারানাথের স্রষ্টা ‘পথের পাঁচালী’র লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০)। তবে তারানাথকে নিয়ে তিনি গল্প লিখেছিলেন মাত্র দুটো: ‘তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প’ আর ‘মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব’। মির্চি বাংলা দ্বিতীয়টাকে বলে ‘তারানাথ তান্ত্রিকের দ্বিতীয় গল্প’।
চরিত্রটাকে ফিরিয়ে আনেন বিভূতিভূষণের ছেলে তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৪৭-২০১০)। তারাদাসের উইকিপিডিয়া পাতায় দুটো বইয়ের নাম আছে, ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ (১৯৮৫) আর ‘অলাতচক্র’ (২০০৩)। উইকিপিডিয়ার তারানাথ-পাতায় তালিকাটা আরও লম্বা, শেষ বই ‘আবার তারানাথ’। সানডে সাসপেন্সের শ্রোতারা যে তারানাথকে চেনেন, তিনি মূলত তারাদাসের। আমাদের সংগ্রহে ওই সিরিজের যত তারানাথ পর্ব আছে, তিনটে বাদে সবক’টায় লেখকের নাম তারাদাস।
পরিবারের কলম এখনও থামেনি। উইকিপিডিয়ার হিসেবে তারাদাসের বড় ছেলে তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় তারানাথকে নিয়ে লিখে চলেছেন। উইকিপিডিয়া এ-ও জানাচ্ছে, ছোট ছেলে তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখেছেন একটা গল্প।
| লেখক | তারানাথের গল্প | এখানে |
|---|---|---|
| বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | ‘তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প’, ‘মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব’ | দুটোই, মির্চি বাংলা আর আকাশবাণী কলকাতায় |
| তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় | ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ (১৯৮৫), ‘অলাতচক্র’ (২০০৩), ‘আবার তারানাথ’ ইত্যাদি | সানডে সাসপেন্সের বেশির ভাগ পর্ব, গপ্পো মীরের ঠেকে তিনটে, হররস্কোপে তিনটে |
| তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় | ‘ভণ্ড তারানাথ’, ‘রুদ্রদেব তারানাথ’, ‘দশচক্রে তারানাথ’, ‘তারানাথের ব্রহ্মাস্ত্র’ | প্রথম তিনটে, গপ্পো মীরের ঠেকে |
| তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায় | ‘কলকাতায় তারানাথ’ | সানডে সাসপেন্সে, ২০২৫ |
| অন্য লেখকেরা | নতুন গল্প, পরিবারের বইয়ে নেই। কয়েকটা কর্ণ শীলের লেখা প্যাস্টিস | হররস্কোপ, সংকেত অডিও স্টোরি, বিভা ক্যাফে, আরও কয়েকটা চ্যানেল |
শুরুটা হোক বিভূতিভূষণের দুটো গল্পে
যে ক্রমে লেখা, সেই ক্রমেই শুনুন। প্রথমটায় জানা যায়, তারানাথ তন্ত্রের পথে এলেন কী করে। দ্বিতীয়টা পরে কাজে লাগবে: মধুসুন্দরী দেবী ফিরে আসেন তারাদাসের ‘ব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তি’-তে। তাই মধুসুন্দরীকে বাদ দেবেন না।
১:১২:০২শুনুন: তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প (পাগলী)তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প (পাগলী)
Mirchi Bangla
মির্চি বাংলা নাম দিয়েছে ‘পাগলী’, মাতু পাগলির নামে। গুপ্তবিদ্যার খোঁজে বেরিয়ে অল্পবয়সী তারানাথের দেখা হয় এক সাধু আর এই পাগলির সঙ্গে। বাইরে থেকে তাকে যেমন দেখায়, মাতু আসলে মোটেই তেমন নয়। বাংলা উইকিপিডিয়ার হিসেবে তারানাথের সাধনা এই মাতু পাগলির কাছেই, বীরভূমের এক শ্মশানে। ৭২ মিনিট, সানডে সাসপেন্স ক্লাসিকস, ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
৫৫:৩৪শুনুন: মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাবমধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব
Mirchi Bangla
মট লেনে এক বাদলা সন্ধেয় বলা গল্প। এক যোগী অল্পবয়সী তারানাথের হাতে তুলে দেন মধুসুন্দরী দেবীকে ডাকার মন্ত্র। এই দেবী মানুষের জগতের কেউ নন। তারপর যা ঘটে, সবই বরাকর নদীর ধারে এক শালবনে। ৫৫ মিনিট, জানুয়ারি ২০২৬।
আকাশবাণী কলকাতা নামের একটা ইউটিউব চ্যানেলে দুটো গল্পই আছে: প্রথম গল্পটা ৫৮ মিনিটের, মধুসুন্দরী ৫১ মিনিটের।
তারপর তারাদাস: সানডে সাসপেন্সের তারানাথ
আমাদের সংগ্রহের চ্যানেলগুলোর মধ্যে তারাদাসের গল্প সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করেছে মির্চি বাংলা। আমরা হলে আগে এগুলোই শুনতাম। প্রথমটার পরে বাকিগুলো সাজানো ছোট থেকে বড়।
৫৪:২৬শুনুন: বেতালবেতাল
Mirchi Bangla
প্রতিশোধ নিতে এক কাপালিক মাধব ঘোষের সংসারের ওপর বেতাল লেলিয়ে দেয়, আর মাঝখানে এসে দাঁড়ান তরুণ তারানাথ। তারানাথের গলায় মীর। ৫৪ মিনিট, প্রথম সম্প্রচার ১৮ অক্টোবর ২০২০। মির্চির ২০১৫ সালের ‘তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প, পর্ব ১’-ও মনে হয় মাধব ঘোষের এই গল্পই।
৩৩:২৬শুনুন: জলপিশাচজলপিশাচ
Mirchi Bangla
এই বাছাইয়ে সবচেয়ে ছোট, ৩৩ মিনিট। গ্রামের দিঘির তলায় কিছু একটা থাকে। লোকে বিশ্বাস করবে কি না, ঠিক করে উঠতে পারে না। মার্চ ২০২৩।
৫৬:০৩শুনুন: অমর জীবনঅমর জীবন
Mirchi Bangla
তারানাথের কাছে এক অচেনা লোক আসে সবচেয়ে পুরোনো প্রশ্নটা নিয়ে: মানুষ কি মৃত্যুকে এড়াতে পারে? ৫৬ মিনিট, আগস্ট ২০২১।
১:০২:৩৯শুনুন: ব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তিব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তি
Mirchi Bangla
অঙ্কের অধ্যাপক ব্রজভূষণ চক্রবর্তী এসবের কিছুই মানেন না, তবু এসে বসেন তারানাথের বৈঠকখানায়। মধুসুন্দরী দেবী ফেরেন এই গল্পেই। ৬২ মিনিট, মার্চ ২০২৪।
২:০৬:১১শুনুন: দেবদর্শনদেবদর্শন
Mirchi Bangla
পুজোর তারানাথ। গল্পের মাঝখানে অষ্টমীর সন্ধিপুজো, আর গল্প গড়ায় লক্ষ্মীপুজোর রাত অবধি। ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট, আগস্ট ২০২৬। এ বছরের পুজোর তারিখ আছে আমাদের দুর্গাপুজো ২০২৬-এর দিনপঞ্জিতে।
২:৪২:৩৩শুনুন: পাসাং মারাপাসাং মারা
Mirchi Bangla
তিব্বতি তন্ত্র আর পাহাড়ের এক অতি পুরোনো শক্তি। আমাদের সংগ্রহের তারানাথ রেকর্ডিংগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি দেখা: সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইউটিউবে ৯৮ লাখের বেশি বার। সানডে সাসপেন্সের যত তারানাথ আমাদের কাছে আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে লম্বাও এটাই, ২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। এমন রাতের জন্য তুলে রাখুন, যার পরের সকালে তাড়া নেই।
গপ্পো মীরের ঠেকে: আগে তারাদাস, তারপর তথাগত
সানডে সাসপেন্সের অনেক পর্বে তারানাথের গলা মীর আফসার আলির, আর তাঁর নিজের গল্পের চ্যানেল গপ্পো মীরের ঠেকেও তারানাথের ভূমিকায় তিনিই। ওই চ্যানেলে তারাদাসের তিনটে গল্প আছে: ‘তারানাথ তান্ত্রিক ও ব্রহ্মপিশাচ’, ‘পঞ্চমুণ্ডির আসন’ আর ‘তারানাথ তান্ত্রিকের আশ্চর্য দুনিয়া’। সঙ্গে আছে তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন গল্পগুলোও। তথাগতর গল্প লম্বা, তিনটেই দু’ঘণ্টার কাছাকাছি বা তার বেশি।
১:৫২:২০শুনুন: ভণ্ড তারানাথভণ্ড তারানাথ
Mir Afsar Ali
গপ্পো মীরের ঠেকের ১০৬ নম্বর পর্ব, জানুয়ারি ২০২৫, লেখক তথাগত। ১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট। নামটাই তারানাথকে ভণ্ড বলে দিচ্ছে।
২:৩৮:০৭শুনুন: রুদ্রদেব তারানাথরুদ্রদেব তারানাথ
Mir Afsar Ali
আবার তথাগত, ডিসেম্বর ২০২৫, ২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। চ্যানেলের নিজের প্রশ্ন: তারানাথ কি শুধু মানুষের উপকারই করেছেন, কারও ক্ষতি কি কখনও করেননি?
২:০৭:২৬শুনুন: দশচক্রে তারানাথদশচক্রে তারানাথ
Mir Afsar Ali
আমাদের সংগ্রহে তথাগতর সবচেয়ে নতুন গল্প এটাই, জুলাই ২০২৬, ২ ঘণ্টা ৭ মিনিট। এবার তারানাথের লড়াই নিজের ভেতরের এক শক্তির সঙ্গে।
‘কলকাতায় তারানাথ’: নাতির লেখা গল্প
তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলকাতায় তারানাথ’ সানডে সাসপেন্সে এসেছিল ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫। মির্চি বাংলা তাঁকে চিনিয়ে দিয়েছিল বিভূতিভূষণের নাতি বলে। গল্পটা তারানাথের অল্প বয়সের, যখন তিনি কলকাতায় ছিলেন আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তখনও বাধেনি। গল্পে এক বাবা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে।
২:২৩:২৫শুনুন: কলকাতায় তারানাথকলকাতায় তারানাথ
Mirchi Bangla
২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট। তারাদাসের গল্পগুলো শোনা হয়ে গেলে এর পরে এটাই ধরুন।
বাকি গল্পগুলো তবে কার?
বাকিগুলোর বেশির ভাগ অন্য লেখকদের নতুন গল্প। হররস্কোপ, সংকেত অডিও স্টোরি, বিভা ক্যাফে, আরও কয়েকটা চ্যানেল নিজেদের মতো করে তারানাথের গল্প বানিয়েছে। হররস্কোপের কয়েকটা আর বিভা ক্যাফের একটা কর্ণ শীলের লেখা প্যাস্টিস। সংকেতের কয়েকটা গল্পের শিরোনামে শুধু বলা আছে, তারাদাস থেকে ‘অনুপ্রাণিত’। এগুলো নতুন গল্প ভেবেই শুনুন, শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজতে যাবেন না। ব্যতিক্রম হররস্কোপের তিনটে পাঠ, যেখানে লেখক হিসেবে তারাদাসের নাম আছে: ‘আবার তারানাথ’, ‘ব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তি’ আর ‘বাস্তুশাপ’। উইকিপিডিয়ার তালিকায় তারাদাসের শেষ তারানাথ বই এই ‘আবার তারানাথ’-ই।
এখানে যেগুলোর কথা বললাম, আর ৫৬টার বাকিগুলোও, সব আছে তারানাথ তান্ত্রিকের পাতায়। বিভূতিভূষণের অন্য যে গল্পগুলো আমাদের কাছে আছে, যেমন ‘চাঁদের পাহাড়’, সেগুলো পাবেন তাঁর লেখকের পাতায়। আর মট লেনের ওই ঘরে এক সন্ধেয় মন না ভরলে, এই সাইটে তারানাথকে পাবেন ভৌতিক গল্পের তাকে।
তথ্যসূত্র (৪)
- তারানাথ তান্ত্রিক (Taranath Tantrik), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- তারানাথ তান্ত্রিক, বাংলা উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মুড কলকাতাকে ফলো করুন
এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।


