মূল অংশে যান
MoodKolkata
ওপর থেকে দেখা ধূসর টেবিলে তিনটে সাদা বাটি আর একটা লম্বা সাদা প্লেট: ফুলকপি, মটরশুঁটি, গাজর আর বিনস দেওয়া খিচুড়ি, লাবড়া, শুকনো লঙ্কা দেওয়া টমেটোর চাটনি আর কয়েক টুকরো বেগুনি, পাশে পুরোনো একটা চামচ
স্টুডিওতে সাজিয়ে তোলা ছবি, কোনও পুজোর ভোগ নয়: খিচুড়ি, লাবড়া, টমেটোর চাটনি, বেগুনি

খাওয়াদাওয়া

দুর্গাপুজোর ভোগ: খিচুড়ি, লাবড়া আর কোন দিন কী

খিচুড়ি-লাবড়া থেকে চাটনি-পায়েস, দুর্গাপুজোর ভোগের থালায় কী থাকে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী আর দশমীতে কী যোগ হয়, আর কেন এক পুজোর নিয়ম অন্য পুজোয় মেলে না।

কোয়েল মণ্ডলপ্রকাশ হালনাগাদ

এই লেখায় (৫)

প্যান্ডেলের লাইনে দাঁড়িয়ে যে খিচুড়ির অপেক্ষা, পাতে পড়ার আগে সেটা একবার ঠাকুরের সামনে ঘুরে এসেছে। ভোগ বলতে এটুকুই। রান্নাগুলো রোজকার: চাল-ডাল একসঙ্গে ফোটানো, পাঁচমিশালি তরকারি, মিষ্টি চাটনি, পায়েস। তফাত একটাই: প্রথম পাতটা ঠাকুরের।

ভোগ কী, প্রসাদের থেকে আলাদা কোথায়?

ভোগ শব্দটা এসেছে সংস্কৃত থেকে, মানে উপভোগ। বিশ্বাসটা বুঝিয়ে দিয়েছে ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় ভোগের পাতা: দেবতাকে দেওয়া খাবার তিনি নিজে গ্রহণ করেন বলে ধরা হয়, তারপর সেটাই প্রসাদ হয়ে আসে ভক্তদের হাতে। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবে যে খাবার বিলোনো হয়, তাকেই বলে ভোগ। আমরা ছোট থেকে যে তফাতটা জেনে এসেছি, সেটাও ওই পাতায় লেখা। ভোগ মানে পুরো এক বেলার খাওয়া। প্রসাদ একটুখানি, পেট ভরানোর জন্য নয়।

জিজ্ঞেস করলে কলকাতার বেশির ভাগ বাঙালি যে থালাটা এঁকে দেবেন, তার বর্ণনাও আছে বাংলা উইকিপিডিয়ায় ভোগের পাতায়: খিচুড়ি, আধা-শুকনো একটা তরকারি, টমেটোর মিষ্টি চাটনি আর পায়েস, কাঠি দিয়ে গাঁথা শালপাতার থালায়। খাওয়া মিটলে সে থালা ফেলে দেওয়া হয়, এটুকু যোগ করেছে ইংরেজি পাতাটা।

ভোগের থালায় কী কী থাকে

দুর্গাপুজোর ভোগের পদ, আর কোনটার কী গল্প
পদকেমন পদজেনে রাখুন
খিচুড়িচাল আর ডাল একসঙ্গে ফোটানো, প্রায়ই সবজি দিয়েমধ্যযুগের মনসামঙ্গলে শিব পার্বতীকে ডাবের জলে মুগডালের খিচুড়ি রাঁধতে বলছেন
লাবড়াতেল আর হালকা মশলায় পাঁচমিশালি তরকারিবাঙালি হিন্দুর, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের রান্না। চৈতন্যচরিতামৃতে চৈতন্যদেব নিজে লাবড়া চেয়ে নিচ্ছেন
টমেটোর চাটনিটমেটোর মিষ্টি চাটনিউইকিপিডিয়ার ভোগের পাতায় চেনা থালার মধ্যেই এর নাম আছে
পায়েসদুধে চাল আর চিনি ফুটিয়েশেষ পাতের মিষ্টিমুখ
লুচিময়দা বেলে ডুবো তেলে বা ঘিয়ে ভাজাদুর্গাপুজো-সহ সব পুজোয় ভোগে দেওয়া হয়। পুজোর সময় লুচির সঙ্গী লাবড়া বা আলুর দম
ভাজাসবজি ভাজাশোভাবাজারের পুরোনো রাজবাড়িতে ভোগ বলতে নানা রকম ভাজা আর মিষ্টি

মনসামঙ্গলের খিচুড়ির কথা লেখা আছে বাংলা উইকিপিডিয়ায় খিচুড়ির পাতায়। কথাটা আমাদের ভারি পছন্দ। খিচুড়ি এতে ঢুকে পড়ে খোদ দেবীর হেঁশেলে, আর এই পার্বতীই তো পুজোয় বাপের বাড়ি আসা উমা। লাবড়ার ইতিহাস ধরা আছে বাংলা উইকিপিডিয়ার লাবড়ার পাতায়। নামটা এসেছে সংস্কৃত অলাবু থেকে। সবজি পড়ে মিষ্টি কুমড়ো, রাঙালু, আলু, মানকচু, কাঁচকলা, থোড়, মোচা, বেগুন আর শিম। ওই পাতা জানাচ্ছে, সত্তরের দশকেও বিয়েবাড়িতে লাবড়া হত, এখন আর হয় না। তবু নানা ঠাকুরবাড়ির নিরামিষ ভোগে আর বাড়ির রান্নায় লাবড়া রয়ে গিয়েছে।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় লুচির পাতা বলছে, দুর্গাপুজো-সহ সব পুজোয় লুচি ভোগে দেওয়া হয়, পরে সেটাই প্রসাদ। দুর্গাপুজোয় তার সঙ্গী লাবড়া বা আলুর দম। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় লুচির পাতা আরও জানায়, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো আর কালীপুজো, তিন পুজো জুড়েই লুচি চলে ডাল আর আলুর তরকারির সাথে।

কোন দিন কী ভোগ?

কোন দিন কী ভোগ হবে, তার বাঁধা কোনও মেনু নেই। প্রত্যেক পুজো চলে নিজের বাড়ি, মন্দির বা কমিটির রীতিতে। এক বাড়িতে অষ্টমীর ভোগে যা দেওয়া হয়, পাশের বাড়িতে তা ভাবাই যায় না, এমনও হয়। নীচের তালিকায় তাই শুধু সেটুকুই রইল, যা পুজোগুলো নিজেরা লিখে রেখেছে। তারিখ কলকাতার, ২০২৬ সালের।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর মূল চার দিনে ভোগ, যেমন লেখা আছে
দিনতারিখকী লেখা আছে
সপ্তমীরবিবার, ১৮ অক্টোবরবেলুড় মঠে দিনের পুজো শেষ হয় ভোগ আর আরতিতে
অষ্টমীসোমবার, ১৯ অক্টোবরবেলুড় মঠে আবার ভোগ আর আরতি। সন্ধিপুজোর পরে দেবীকে ভোগ দেওয়ার কথা আছে উইকিপিডিয়ায়
নবমীমঙ্গলবার, ২০ অক্টোবরহোম আর ভোগ
দশমীবুধবার, ২১ অক্টোবরবেলুড় মঠে বিসর্জনের আগে শীতল ভোগ। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আটচালার পুজোয় পান্তা ভাত

বেলুড় মঠ নিজেই তার দুর্গাপুজোর বিবরণ লিখে রেখেছে। সপ্তমী আর অষ্টমী, দু’দিনই পুজো শেষ হয় ভোগ আর আরতিতে। দশমীর সকাল শুরু হয় ছোট একটা পুজো, শীতল ভোগ আর আরতি দিয়ে। শীতল ভোগে কী কী থাকে, মঠের বিবরণে তা লেখা নেই। নবমীর হোম আর ভোগের কথা আছে ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় দুর্গাপুজোর পাতায়। অষ্টমীর সন্ধিপুজোর পরে দেবীকে ভোগ দেওয়ার কথাও ওই পাতাতেই লেখা।

বাকি রীতিগুলো দেখলে বোঝা যায়, পুজোয় পুজোয় কত তফাত। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পান্তা ভাতের পাতা লিখছে, কলকাতায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের আটচালার দুর্গাকে বিজয়া দশমীতে পান্তা ভাতের ভোগ দেওয়া হয়, সঙ্গে খেসারির ডাল, কচুপাতা ভাজা, মাছের ঝোল আর চালতার চাটনি। মানে ভোগে মাছ মোটেই অচেনা নয়। যাঁরা নিরামিষ পুজো দেখে বড় হয়েছেন, ‘একটাই নিয়ম’ বলে কেউ তর্ক জুড়লে এই লাইনটা দেখাবেন।

অষ্টমীতে আগে অঞ্জলি, তারপর ভোগের লাইন

ভোগ আসে পুজো শেষ হলে, তাই আগে অঞ্জলি। দৃকপঞ্চাঙ্গের কলকাতার হিসেবে এ বছর অষ্টমী তিথি ছাড়ছে সোমবার, ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫১-য়। সন্ধিপুজো চলবে সকাল ১০টা ২৭ থেকে ১১টা ১৫ পর্যন্ত। পুরো নির্ঘণ্ট আছে আমাদের দুর্গাপুজো ২০২৬-এর দিনলিপিতে। পাড়ার পুজো গুপ্তপ্রেস বা বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মানলে সপ্তমী আর অষ্টমী এক দিন করে আগে (সপ্তমী, শনিবার, ১৭ অক্টোবর আর অষ্টমী, রবিবার, ১৮ অক্টোবর), আর সন্ধিপুজো সোমবার সকাল ৭টা ২৬ থেকে ৮টা ১৪। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মানা মণ্ডপে অঞ্জলি মিটে যাবে সোমবার মোটামুটি সকাল ৭টার মধ্যেই। নবমী আর দশমী নিয়ে এই মতের পুজোগুলোও সবাই একমত নয়। আমরা বলব, অঞ্জলিটা সকাল সকাল সেরে ফেলুন, তারপর মণ্ডপেই জিজ্ঞেস করে নিন ভোগ ক’টায়। ভোগের সময় প্রত্যেক কমিটি নিজেরাই ঠিক করে। শেষ কথা বলবে মণ্ডপের নোটিস।

৫:০৫

অষ্টমী, পুজোর ঢাক

Saregama Bengali

সারেগামার পাঁচ মিনিটের অষ্টমীর ঢাক। মণ্ডপ থেকে দূরে বাড়িতে খিচুড়ি চাপালে রান্নাঘরে শুধু এই আওয়াজটুকুরই অভাব।

পুজো মুডে আরও

খাওয়ার পরে একটা গল্প

বাংলা সাহিত্যেও এক নামী রাঁধুনি আছেন, হাজারি ঠাকুর। তাঁকে নিয়েই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৪০ সালের উপন্যাস ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। হাজারি রাঁধেন রানাঘাট স্টেশনের কাছে এক হোটেলে। স্বপ্ন দেখেন নিজের একটা হোটেলের, আর তার জন্য চাই দুশো টাকা। গল্পটা এভাবেই ধরা আছে ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় উপন্যাসের সারাংশে। আমাদের কাছে উপন্যাসটা আছে দুই পর্বে, ‘গপ্পো মীরের ঠেক’-এ পড়া।

২:৩৩:২৪শুনুন: আদর্শ হিন্দু হোটেল, প্রথম পর্ব

আদর্শ হিন্দু হোটেল, প্রথম পর্ব

Mir Afsar Ali

মীর আফসার আলির চ্যানেল, ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট। ভোগ খেয়ে ওঠা দুপুরের জন্য ঠিক মাপের। গল্পটাও এক রাঁধুনির, রান্নাই যাঁর রুজি। রান্না কেমন হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি সত্যিই মাথা ঘামান। দ্বিতীয় পর্ব ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mir Afsar Ali

৩:৩৫:৪৪শুনুন: সানডে সাসপেন্স ক্লাসিকস: ভোগ আর শোধ

সানডে সাসপেন্স ক্লাসিকস: ভোগ আর শোধ

Mirchi Bangla

মির্চি বাংলা, অভীক সরকারের দুটো গল্প, সব মিলিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। নামের গুণেই এখানে জায়গা পেয়েছে, এ লেখার ‘ভোগ’ শব্দটা এর নামেও আছে। তবে গল্প দুটো রাখা ভূতের গল্পের তাকে, তাই দুপুরে নয়, রাতে শুনুন।

▶ এখানে শুনুনYouTube-এ দেখুন · Mirchi Bangla

আরও গল্প পাবেন বিভূতিভূষণের পাতায়, আর পুজোর সপ্তাহের বাকি গান আছে পুজোর মুডে। ভোগ খেয়ে ওঠার পরের ঘণ্টাটায় কেউ নড়তে চায় না, অথচ সবার নিজের একটা মত থাকে। সেই ঘণ্টার জন্য রইল আড্ডার মুড।

তথ্যসূত্র (১৩)
সদ্য এসেছেগল্পের চ্যানেলে নতুন কী এলসবে যা উঠেছে, বাজে চ্যানেলের নিজের ইউটিউবেই।

মুড কলকাতাকে ফলো করুন

এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।

  1. খাওয়াদাওয়া

    পুজোর স্পেশাল মেনু ২০২৬: কলকাতায় কারা ঘোষণা করল, কারা এখনও করেনি

  2. বই

    ঘনাদা: কে তিনি, আর তাঁর কোন গল্প আগে শুনবেন

  3. শোনা

    মান্না দে-র বাংলা গান: শুরু করুন এই ১৪টা দিয়ে

থামানো

হোম স্ক্রিনে MoodKolkata যোগ করুন

  1. ব্রাউজারের বারে শেয়ার-এ চাপুন (উপরে তীর-দেওয়া চৌকো চিহ্ন)।
  2. নীচে নেমে “Add to Home Screen”-এ চাপুন।
  3. “Add”-এ চাপুন। হোম স্ক্রিন থেকে MoodKolkata অ্যাপের মতোই খুলবে।