
উৎসব
দুর্গাপুজো (Durga Puja) ২০২৬: ষষ্ঠী থেকে দশমী, কোন দিন কী
দুর্গাপুজো ২০২৬ কত তারিখে? কলকাতার পঞ্জিকা ধরে ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী, প্রতিদিনের আচার, লন্ডন-নিউ ইয়র্কে সন্ধিপুজো ক’টায়, আর কোন দিন কোন গান।
এই লেখায় (৮)
- দুর্গাপুজো ২০২৬ কবে, কত তারিখ থেকে শুরু?
- মহালয়া থেকে পঞ্চমী: অপেক্ষার ক’টা দিন
- ষষ্ঠীতে কী হয়? বিল্ব নিমন্ত্রণ, কল্পারম্ভ, অকালবোধন
- সপ্তমী: কলাবউ ভোরবেলা ঘাটে যান কেন?
- অষ্টমী ২০২৬: অঞ্জলি, কুমারীপুজো আর সন্ধিপুজোর সময়
- লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা দুবাইয়ে সন্ধিপুজো ক’টায়?
- বাংলায় নবমী মঙ্গলবার, আর দশেরা এক দিন আগে কেন?
- বিজয়া দশমী ২০২৬: সিঁদুর খেলা, বিসর্জন, বিজয়া
এ বছর পুজো আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিকে গড়িয়েছে। ষষ্ঠী ২৯ আর ৩০ আশ্বিন, সপ্তমী থেকে দশমী ১ থেকে ৪ কার্তিক ১৪৩৩। তিথি তখনও আশ্বিনের শুক্লপক্ষে, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকায় বদলেছে শুধু বাংলা মাস। তবে ক্যালেন্ডারে একটা জিনিসই যদি লিখে রাখেন, সেটা তারিখ নয়, সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সকাল ১০টা ৫১। ওই মিনিটেই অষ্টমী ছাড়ছে। অঞ্জলি আর সন্ধিপুজো, এ বছর দুটোই ওই মুহূর্তটার আশপাশে।
দুর্গাপুজো ২০২৬ কবে, কত তারিখ থেকে শুরু?
কলকাতায় দুর্গাপুজো ২০২৬ শুরু ষষ্ঠীতে, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর। শেষ বিজয়া দশমীতে, বুধবার, ২১ অক্টোবর। দিন আর তিথির সময় মিলবে দৃকপঞ্চাঙ্গের কলকাতার দুর্গাপুজো ক্যালেন্ডার আর তার প্রতিটা আচারের পাতায়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার হিসেবে প্রতিটা তিথি ছাড়ছে এক-দু’মিনিট পরে, যেমন অষ্টমী সকাল ১০টা ৫২-য়। রাজ্য সরকারের ছুটির তালিকা আর বেলুড় মঠের সূচিও সপ্তমী থেকে দশমী এই দিনগুলোই ধরেছে। পাড়ার পুজো গুপ্তপ্রেস বা বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মানলে সপ্তমী আর অষ্টমী এক দিন করে আগে (সপ্তমী, শনিবার, ১৭ অক্টোবর আর অষ্টমী, রবিবার, ১৮ অক্টোবর), আর সন্ধিপুজো সোমবার সকাল ৭টা ২৬ থেকে ৮টা ১৪। নবমী আর দশমী নিয়ে এই মতের পুজোগুলোও সবাই একমত নয়, তাই মণ্ডপের নোটিস দেখে নিন। এখানে সব ঘড়ির হিসেব ভারতীয় সময়ে, তাই বেঙ্গালুরু, দিল্লি, হায়দরাবাদ বা পুনেতেও একই।
| তারিখ | বার | তিথি | কী হয় | কী করবেন, কী শুনবেন |
|---|---|---|---|---|
| ১০ অক্টোবর | শনিবার | অমাবস্যা (মহালয়া) | ঘাটে তর্পণ, পিতৃপক্ষের শেষ দিন | রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী, রীতি মেনে ভোর ৪টেয়, সব আছে মহালয়ার লেখায় |
| ১৫ অক্টোবর | বৃহস্পতিবার | পঞ্চমী | আচার শুরুর আগের দিন | আগমনী গান, পুজোর গানের তালিকা থেকে |
| ১৬ অক্টোবর | শুক্রবার | ষষ্ঠী (ভোর ৩টে ২৫ থেকে) | বিল্ব নিমন্ত্রণ, দুপুর ২টো ৫১ থেকে বিকেল ৫টা ১১, আর বেলুড় মঠে ভোরে কল্পারম্ভ, সন্ধেয় বোধন | ‘জাগো দুর্গা’ |
| ১৭ অক্টোবর | শনিবার | ষষ্ঠী (ভোর ৫টা ৫৪ পর্যন্ত), তারপর সপ্তমী | আমন্ত্রণ ও অধিবাস (দৃকপঞ্চাঙ্গে কল্পারম্ভ আর অকালবোধনও আজ) | দূরে থাকলে আজ সন্ধে থেকে পুজোর মুড |
| ১৮ অক্টোবর | রবিবার | সপ্তমী (সকাল ৮টা ২৭ পর্যন্ত) | ভোরে কলাবউ স্নান, নবপত্রিকা প্রবেশ, প্রাণপ্রতিষ্ঠা | ‘গৌরী এল’ |
| ১৯ অক্টোবর | সোমবার | অষ্টমী (সকাল ১০টা ৫১ পর্যন্ত), তারপর নবমী | অঞ্জলি, কুমারীপুজো, সন্ধিপুজো সকাল ১০টা ২৭ থেকে ১১টা ১৫ | অঞ্জলি সকাল সকাল, সন্ধিক্ষণে অষ্টমীর ঢাক |
| ২০ অক্টোবর | মঙ্গলবার | নবমী (দুপুর ১২টা ৫০ পর্যন্ত), তারপর দশমী | নবমীর পুজো, ভোগ, হোম | সিনেমার পুজোর গান, গানের লেখায় |
| ২১ অক্টোবর | বুধবার | দশমী (দুপুর ২টো ১১ পর্যন্ত) | দশমীর পুজো, সিঁদুর খেলা, বিসর্জন, বিজয়া | বড়দের প্রণাম, কোলাকুলি, দশমীর ঢাক |
আপনার পাড়ার পুজো কোনও আচার অন্য দিনে করতেই পারে। তখন মণ্ডপের নোটিসটাই আসল। বাংলাদেশে ঘোষিত পুজোর তারিখ এই লেখার বাইরে।
মহালয়া থেকে পঞ্চমী: অপেক্ষার ক’টা দিন
মহালয়া শনিবার, ১০ অক্টোবর। অমাবস্যা, পিতৃপক্ষের শেষ দিন। পরদিন থেকে দেবীপক্ষ। ভোরে রেডিওয় মহিষাসুরমর্দিনী, সকালে ঘাটে তর্পণ। সম্প্রচার ক’টায়, আর আপনার শহরে সেটা কখন পড়ছে, সব পাবেন মহালয়ার লেখায়।
পঞ্চমী বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, আচার শুরুর আগের দিন। শুরুটা শুক্রবারে কেন? উত্তর নিছক অঙ্ক। বিল্ব নিমন্ত্রণ করতে হয় বিকেলের দিকে, ষষ্ঠী তিথি থাকতে থাকতে। এ বছর ষষ্ঠী লাগছে শুক্রবার ভোর ৩টে ২৫-এ, ছাড়ছে শনিবার ভোর ৫টা ৫৪-য়। মাঝে বিকেল পড়ছে একটাই, শুক্রবারের। বিল্ব নিমন্ত্রণ তাই সেদিনই।
ষষ্ঠীতে কী হয়? বিল্ব নিমন্ত্রণ, কল্পারম্ভ, অকালবোধন
এ বছর ষষ্ঠী দু’দিন জুড়ে, আচারও তাই দু’দিনে ভাগ। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর বিল্ব নিমন্ত্রণ: বেলগাছে বা বেলের ডালে দেবীকে আহ্বান, পরদিনের পুজোর নিমন্ত্রণ। দৃকপঞ্চাঙ্গের হিসেবে কলকাতায় এর সময় দুপুর ২টো ৫১ থেকে বিকেল ৫টা ১১।
কল্পারম্ভ, পুজোর আনুষ্ঠানিক শুরু, এবার কোথাও শুক্রবার, কোথাও শনিবার। বেলুড় মঠ কল্পারম্ভ করছে শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ভোর ৬টায়, বোধন সন্ধে ৬টা ১৫-য়, আর আমন্ত্রণ-অধিবাস শনিবার সন্ধেয়। দৃকপঞ্চাঙ্গ চারটেই রেখেছে শনিবারে। বেলুড় মঠ তাদের দুর্গাপুজোর বিবরণে লিখেছে, কল্পারম্ভ হয় ভোরে: তিন দিনের পুজো ঠিকমতো করার সংকল্প, আর মণ্ডপের এক কোণে জলভরা তামার ঘট বসানো। ষষ্ঠী অবশ্য ছেড়ে যাচ্ছে শনিবার ভোর ৫টা ৫৪-তেই। তাই কোন আচার শুক্রবার আর কোনটা শনিবার, এ বছর সেটা পুরোহিতমশাইয়ের বিচার।
অকালবোধন মানে অসময়ে জাগানো। শাস্ত্রমতে সূর্যের দক্ষিণায়নের ছ’মাস দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন, আর শরৎ পড়ে তার মধ্যেই। দুর্গার পুজোর আসল ঋতু ছিল বসন্ত। কৃত্তিবাসের রামায়ণে রাবণের সাথে যুদ্ধের আগে আশীর্বাদ চাইতে রাম শরতেই, অসময়ে দেবীকে জাগিয়ে পুজো করেন। পুজো কেন শরতে, বাংলা তার উত্তরে এই গল্পটাই মনে রেখেছে।
২:১১জাগো দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী
Saregama Bengali
মহিষাসুরমর্দিনীতে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের গান, দেবীকে জাগানোর ডাক। মিনিট দুয়েক। শুক্রবার সন্ধেয় বা শনিবার ভোরে চালান।
সপ্তমী: কলাবউ ভোরবেলা ঘাটে যান কেন?
কলাবউ ঘাটে যান স্নান করতে। সপ্তমীর সকালে স্নানের পরেই তাঁকে মণ্ডপে আনা হয়, আর এ বছর সপ্তমী তিথি থাকছে মোটে সকাল ৮টা ২৭ পর্যন্ত। রবিবার, ১৮ অক্টোবর ভোরে পুরোহিত নবপত্রিকা কাঁধে নিয়ে যান কাছের নদী বা পুকুরে, পেছনে ঢাকিরা, আর শাঁখ বাজিয়ে উলু দিতে দিতে মেয়েরা। কলকাতায় সূর্য উঠছে ভোর ৫টা ৩৪-এ। স্নান দেখতে চাইলে এ বছর সত্যিই ভোরে বেরোতে হবে।
লোকমুখে নবপত্রিকার নাম কলাবউ। বাংলা উইকিপিডিয়ায় নবপত্রিকার পাতা বলছে, নামে পত্রিকা হলেও আসলে ন’টা পাতা নয়, ন’টা গাছ। পাতাসমেত একটা কলাগাছের সাথে বাঁধা হয় আরও আটটা, তার মধ্যে বেল, হলুদ, ডালিম, অশোক আর ধান। ন’টা গাছে দেবী দুর্গার ন’টা রূপ। স্নানের পর নতুন শাড়ি পরিয়ে, ঘোমটা টেনে, বউয়ের মতো সাজিয়ে তাঁকে বসানো হয় দেবীর ডান দিকে, কাঠের আসনে।
তারপর মহাস্নান। প্রতিমার সামনে আয়না রেখে আয়নায় পড়া দেবীর প্রতিবিম্বকেই স্নান করানো হয়। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, প্রতিমায় প্রাণ দেওয়ার আচার। গোটা পুজোয় সেটা একবারই হয়, সপ্তমীতে।
৫:০০গৌরী এল
Bengali Music Directory | BMD
কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের দোহারের আগমনী। পাঁচ মিনিট ধরে উমার বাপের বাড়ি আসা, সপ্তমীর সকালটা তো তা-ই।
অষ্টমী ২০২৬: অঞ্জলি, কুমারীপুজো আর সন্ধিপুজোর সময়
সোমবার, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, আর এ বছর তার সকালটা ছোট। তিথি লাগছে রবিবার সকাল ৮টা ২৭-এ, ছাড়ছে সোমবার সকাল ১০টা ৫১-য়। দিন শুরু পুষ্পাঞ্জলিতে। মুখে আমরা বলি শুধু অঞ্জলি। সন্ধিপুজো শুরু সকাল ১০টা ২৭-এ। তাই অঞ্জলি দিতে সকাল সকাল বেরোন। আমাদের ধারণা, বেশির ভাগ পুজো সন্ধিপুজোর আগেই অঞ্জলি সেরে ফেলবে। দশটায় লাইনে দাঁড়ালে অঞ্জলির পালা না-ও আসতে পারে। গুপ্তপ্রেস বা বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মানা মণ্ডপে অষ্টমী রবিবার, আর সোমবার সন্ধিপুজো সকাল ৭টা ২৬-এ। শেষ কথা আপনার মণ্ডপের নোটিস।
অষ্টমীতে অনেক পুজোয় কুমারীপুজো হয়: ছোট একটি মেয়েকে দেবী জ্ঞানে পুজো। বেলুড় মঠে এর শুরু তাদের প্রথম দুর্গাপুজোয়, ১৯০১ সালে। মঠের নিজের বিবরণে আছে, সেবার স্বামী বিবেকানন্দ কয়েকজন কুমারীকে পুজো করেছিলেন। এখন কুমারী একজনই, আর প্রবীণ সন্ন্যাসীরাও তাঁর পায়ে ফুল দেন।
সন্ধিপুজো দুই তিথির জোড়ের পুজো: অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিট। কাহিনি বলে, এই সময়েই দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড আর মুণ্ডকে বধ করেন। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় দুর্গাপুজোর পাতায় আছে, এই সময় ১০৮টা পদ্ম দেওয়া হয়, জ্বালানো হয় ১০৮টা প্রদীপ। বেলুড় মঠে পশুবলি কখনও হয় না। ১৯০১-এ স্বামীজি বলি দিতে চেয়েছিলেন, মা সারদা নিষেধ করেন। সেই থেকে প্রতীকী বলি একটা কলা। এ বছর ওই ৪৮ মিনিট সকাল ১০টা ২৭ থেকে ১১টা ১৫।
৫:০৫অষ্টমী, পুজোর ঢাক
Saregama Bengali
সারেগামার পাঁচ মিনিটের ঢাক। ঢাকি হিসেবে নাম আছে ফণী নাট্টা, জয়দেব নন্দী, মণীন্দ্র দাস আর ব্রজকান্ত নন্দীর। সকাল ১০টা ২৭-এ মণ্ডপ থেকে দূরে থাকলে আমরা এটাই চালাব।
লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা দুবাইয়ে সন্ধিপুজো ক’টায়?
কলকাতায় সোমবার সকাল ১০টা ২৭ মানে লন্ডনে সেই সোমবারই ভোর ৫টা ৫৭, আর নিউ ইয়র্ক-টরন্টোয় রাত ১২টা ৫৭, রবিবার রাত সবে সোমবারে গড়িয়েছে। আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে তখনও রবিবার রাত, দশটা বাজতে তিন মিনিট। নীচের ঘড়ি গোনা শুরু করছে ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ২৭ থেকে, পুজো চলবে তার পরের ৪৮ মিনিট। ব্রিটেনে সামার টাইম থাকছে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত, আমেরিকা-কানাডায় ১ নভেম্বর পর্যন্ত। সিডনি-মেলবোর্নে ঘড়ি এক ঘণ্টা এগোচ্ছে ৪ অক্টোবর, তাই পুজোর সময় সেখানে ডেলাইট সেভিং।
কলকাতার সন্ধিপুজো আপনার শহরে ক’টায়
- কলকাতা, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, গোটা ভারতসোম১০:২৭১৯ অক্টো
- ঢাকাসোম১০:৫৭১৯ অক্টো
- দুবাইসোম০৮:৫৭১৯ অক্টো
- সিঙ্গাপুরসোম১২:৫৭১৯ অক্টো
- সিডনি, মেলবোর্নসোম১৫:৫৭১৯ অক্টো
- লন্ডনসোম০৫:৫৭১৯ অক্টো
- নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, টরন্টোসোম০০:৫৭১৯ অক্টো
- শিকাগো, হিউস্টনরবি২৩:৫৭১৮ অক্টো
- সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, ভ্যাঙ্কুভাররবি২১:৫৭১৮ অক্টো
সন্ধিপুজো শুরু সকাল ১০টা ২৭ (ভারতীয় সময়), চলবে ৪৮ মিনিট, ১১টা ১৫ পর্যন্ত। সময়ের হিসেব দৃকপঞ্চাঙ্গের, কলকাতার জন্য।
তিথির সময় কলকাতার হিসেবে। বিদেশের কোনও পুজো নিজের শহরের হিসেব ধরতে পারে, তাই অ্যালার্ম দেওয়ার আগে সেখানকার নোটিস একবার দেখে নিন।
বাংলায় নবমী মঙ্গলবার, আর দশেরা এক দিন আগে কেন?
কারণ বাংলা নবমী ধরে সকালের তিথি দেখে, বাকি ভারত আগের দিনের বিকেল দেখে। নবমী তিথি লাগছে সোমবার সকাল ১০টা ৫১-য়, ছাড়ছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০-এ। ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যে মহানবমী সোমবার, বিজয়াদশমী বা দশেরা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর। বাংলায় দুটোই এক দিন পরে: নবমী মঙ্গলবার, দশমী বুধবার, ২১ অক্টোবর। নিয়মটা দেওয়া আছে বাংলার মহানবমী নিয়ে দৃকপঞ্চাঙ্গের পাতায়। অন্য রাজ্যে আগের দিন সূর্যাস্তের আগে অন্তত তিন মুহূর্ত (পঞ্জিকার এক মুহূর্ত মানে ৪৮ মিনিট) নবমী থাকলে সেই দিনই নবমী। বাংলার নিয়ম অন্য: সূর্য ওঠার পরেও অন্তত এক মুহূর্ত নবমী থাকলে তবেই সেদিন নবমী।
তাই দিল্লি বা পুনের অফিসে দশেরার ছুটি মঙ্গলবার হলেও বাংলার বিজয়া বুধবার। নবমীতে মহাস্নান, পুজো, ভোগ আর হোম। বেলুড় মঠে বলি হয় চালকুমড়ো আর আখ দিয়ে। বিসর্জনের আগে শেষ গোটা সন্ধেও এই নবমী। সিনেমার পুজোর গান তো এই সন্ধের জন্যই বাঁধা। সেগুলো পাবেন আমাদের পুজোর গানের লেখায়।
বিজয়া দশমী ২০২৬: সিঁদুর খেলা, বিসর্জন, বিজয়া
বুধবার, ২১ অক্টোবর বাংলার বিজয়া দশমী, তিথি থাকছে দুপুর ২টো ১১ পর্যন্ত। সকালের পুজো ছোট। বেলুড় মঠে তার শেষে বিসর্জনের আচার: প্রতিমা আর নবপত্রিকায় আবাহন করা দেবীকে পুরোহিত অনুরোধ করেন, দেবী যেন নিজের ধামে ফিরে যান। প্রতিমা রওনা দেয় পরে।
তারপর সিঁদুর খেলা। আগে দেবীবরণ: এয়োরা পান আর মিষ্টি দিয়ে মাকে বরণ করেন, কপালে আর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ান। এরপর নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর মাখান: কপালে, হাতের শাঁখা-পলায়, গালে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় সিঁদুর খেলার পাতা লিখছে, কবে কোথায় শুরু, কেউ জানে না। একটা মত, প্রায় দুশো বছর আগে জমিদারবাড়ির পুজোয়। আর একটা মত, খেলাটা পুজোর মতোই পুরোনো। প্রথা মেনে খেলেন শুধু বিবাহিত মেয়েরা। রীতিটার সমালোচনাও ঠিক এই কারণেই।
বহু পাড়ায় সেদিন সন্ধেয় প্রতিমা যায় নদীর ঘাটে। বেলুড় মঠে বিসর্জনের পর সেই জায়গার জল ছেটানো হয় সবার গায়ে। এই জলই শান্তিজল। তারপর একে অন্যকে জড়িয়ে ধরা। বাংলার ঘরে ঘরে এরই নাম কোলাকুলি। সাথে বড়দের প্রণাম, আর দরজায় যে-ই আসুক, তার হাতে মিষ্টি। প্রণামের পালা চলে আরও ক’দিন।
১০:১০দশমী, পুজোর ঢাক
Saregama Bengali
দশ মিনিটের ঢাক, নাম আছে অষ্টমীর ট্র্যাকের সেই চার ঢাকিরই। ঘাটের পথে চালান, আর ঘাট যদি সাত সমুদ্র দূরে হয়, বাড়ির সন্ধেয়।
২:২৭শুনুন: ও মা গো: ছেলেকে বিজয়ার প্রণামে পাঠাতে চান মাও মা গো: ছেলেকে বিজয়ার প্রণামে পাঠাতে চান মা
Mirchi Bangla
মির্চি বাংলার আড়াই মিনিটের হাসির গল্প। মা ছেলেকে বিজয়ার প্রণাম করতে পাঠাচ্ছেন, ছেলে যেতে চায় না। ছোটবেলায় আপনি কোন দিকে ছিলেন, শুনলেই মনে পড়বে।
ঢাক থামলেও গান থামে না। পুজোর মুড নিজে থেকেই পুজোর গান বাজিয়ে চলে। আগমনী থেকে বিজয়া পর্যন্ত পুরো তালিকা আছে আমাদের দুর্গাপুজোর গানের লেখায়।
তথ্যসূত্র (৮)
- দুর্গাপুজো ক্যালেন্ডার ২০২৬, কলকাতা, দৃকপঞ্চাঙ্গ। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- সন্ধিপুজোর মুহূর্ত ২০২৬, কলকাতা, দৃকপঞ্চাঙ্গ। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- বাংলার মহানবমী ২০২৬, কলকাতা, দৃকপঞ্চাঙ্গ। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- শ্রীশ্রী দুর্গাপুজো ২০২৬: অনুষ্ঠানসূচি, বেলুড় মঠ। দেখা হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬।
- সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ (বিজ্ঞপ্তি 4188-F(P2)), পশ্চিমবঙ্গ সরকার, অর্থ (অডিট) দফতর। দেখা হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬।
- নবপত্রিকা, বাংলা উইকিপিডিয়া। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- দুর্গাপুজো (Durga Puja), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
- সিঁদুর খেলা (Sindur Khela), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। দেখা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মুড কলকাতাকে ফলো করুন
এমন লেখা, নতুন গল্প আর গান এলেই খবর পাবেন।


